লন্ডন যেতে আর কানেক্টিং ফ্লাইটের ঝামেলা নেই! কলকাতার আকাশ থেকে কি তবে সোজা বিলেত উড়ান?

কলকাতা থেকে সরাসরি লন্ডন! বহু প্রতীক্ষিত উড়ান পরিষেবা চালুর পথে বড় মোড় নবান্নে

বাঙালির বহুদিনের পুরনো একটা আক্ষেপ খুব শীঘ্রই ঘুচতে চলেছে। কলকাতা থেকে সোজা বিলেতে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন এবার সত্যি হওয়ার পথে। দীর্ঘ দিনের বিরতির পর ফের কি তবে চালু হতে চলেছে সরাসরি কলকাতা-লন্ডন বিমান পরিষেবা? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে। সম্প্রতি এই বিষয়ে এক বড় অগ্রগতি হয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নে।

সোমবার নবান্ন সভাঘরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র বা ‘MoU’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই নতুন চুক্তি এবং বিমানবন্দর তৈরির লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিরাট পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

এদিনের এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং সহ রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে মূলত রাজ্যের নতুন প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজ্যের তরফ থেকে যে প্রস্তাবিত চারটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা।

কোন কোন এলাকার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে? প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই জায়গাগুলি বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত কারণ। কোথাও গুরুত্ব পেয়েছে উদীয়মান শিল্পাঞ্চল, কোথাও আবার পর্যটন শিল্পের প্রসারের প্রয়োজনীয়তা। পাশাপাশি জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের মতো অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত ও সুগম যোগাযোগ গড়ে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখেও শোনা গেছে বড় প্রতিশ্রুতির কথা। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলার মাটিতে মোট আটটি বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে রাজ্যে মাত্র চারটি বিমানবন্দর থাকলেও আগামী দিনে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী এক দশকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও একশোটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ যাতে খুব সহজেই আকাশপথে যাতায়াত করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিমান পরিষেবা চালু হলে এবং নতুন বিমানবন্দরগুলি তৈরি হলে বাংলার অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসবে। বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা কলকাতা-লন্ডন সরাসরি উড়ান চালুর সম্ভাবনার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঠিক কবে থেকে এই আকাশপথের যাত্রার সুযোগ পান সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *