সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মেগা নোটিস! একলা চলো নীতি নিলে সব সিদ্ধান্ত বাতিল করার কড়া হুঁশিয়ারি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সাসপেন্ড করার দাবি সংবলিত একটি মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র সরকারকে এই বিষয়ে নোটিস পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

কী জানাল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই হতে হবে। যদি কমিশন দেখাতে ব্যর্থ হয় যে তাদের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল, তবে সেই আদেশগুলি পর্যালোচনা বা খারিজ করে দেওয়া হতে পারে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, নোটিস দেওয়ার পর যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ছাড়াই এককভাবে নেওয়া হয়েছে, তবে সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ (Interim Order) জারি করতে অস্বীকার করেছে।

‘অন্যান্য সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের চেয়েও বেশি ক্ষমতাশালী সিইসি’
শুনানি চলাকালীন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং সওয়াল করতে গিয়ে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অন্য যেকোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছেন। ১৯৯০ সালের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি জানান যে, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ নাগরিকরা এই ক্ষমতার কারণে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন এবং বিচারকরাও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সহজেই খারিজ করতে পারছেন না। এর উত্তরে বিচারপতি জে বাগচি মন্তব্য করেন যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী এই ধরনের ব্যাপক ক্ষমতাই ওই অফিসে অর্পিত রয়েছে।

পিটিশনে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছিল?
আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ ছিল যে, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ১৪টি বড় সিদ্ধান্ত অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে এসআইআর-এর অধীনে নেওয়া ওই ১৪টি সিদ্ধান্ত বাতিল করার আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার গোটা প্রক্রিয়াটির একটি এসআইটি (SIT) তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে পিটিশনে। আদালত এখনই কোনো অন্তর্ত্বকালীন নির্দেশ না দিলেও, আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন গোটা দেশের নজর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *