“তুমি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, একদম ফেক!” রাজবীরকে লক্ষ্য করে ফায়ার নন্দিনী, ঝগড়ার বহরে হতবাক দর্শকরা

‘বিগ বস বাংলা’ (Bigg Boss Bangla)-র অন্দরমহলে উত্তেজনার পারদ এখন চরমে। ড্রয়িংরুমের আড্ডা থেকে ক্যামেরার ফোকাস—সব জায়গায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্ত। সম্প্রতি শোয়ের বাথরুম এরিয়ায় এই দুই প্রতিযোগীর মধ্যে যে তুমুল ঝগড়া বেঁধেছিল, তার জেরে একেবারে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঝামেলার আসল সূত্রপাত কোথায়?
নন্দিনীর সোজা অভিযোগ ছিল, রাজবীর তাঁকে গেমের মধ্যে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। ঝড়ের বেগে চলা সেই বাকযুদ্ধে রেগে গিয়ে নন্দিনী রাজবীরকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “তুমি আমাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছ। নিজেকে খুব স্ট্রং মনে করো? তুমি খুব সেলফিশ। এখান থেকে বের হও। গেট আউট।”
আসলে এই উত্তেজনার মূলে ছিল অন্য একটি ঘটনা। রাজবীর কিছুদিন আগে দুর্নিবারকে বলেছিলেন, ‘তুমি কোথাও যাচ্ছ না বস’। আর এই কথাটিকেই অন্যভাবে নিয়ে নন্দিনীর মনে হয়েছিল, রাজবীর আসলে তাঁরই ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা মনে মনে চাইছেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে নন্দিনী আরও বলেন, “তার মানে তুমি আমার চলে যাওয়া ম্যানিফেস্ট করছ… তুমি খুব অল্পস্বল্প খেলছ, আর আমরা কি এখানে নাটক করছি? তুমি নাটক করো আমার সামনে। যা করো সব ফেক।”
চুপ থাকেননি রাজবীরও
পাল্টা জবাবে চুপ থাকেননি রাজবীরও। নন্দিনীকে নিজের মেজাজ সংযত রাখার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ফালতুভাবে কথা বলবে না, নিজের লিমিটে থাকো।” রাজবীরের পাল্টা দাবি, নন্দিনী নিজে সৃজলার নামে নানা কথা বলেন অথচ তাঁর সঙ্গেই আবার হাসিমুখে গল্প করেন। এছাড়া ভরত কলের রুটি নিয়ে এসে রাজবীরের কানে নালিশ করার বিষয়টি তুলে নন্দিনীকে ‘দোগলা’ ও ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বলতেও ছাড়েননি তিনি।
কথার লড়াই যত গড়িয়েছে, ততই উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। একে অপরকে কটাক্ষ করে ‘পাগল’ ও ‘ছাগল’ বলতেও পিছপা হননি তাঁরা। এমনকি অনুষ্কা এসে যখন ঘরে জানান যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বয়কট নন্দিনী’ ট্রেন্ড চলছে, তখন রাজবীর কিছুটা ধন্দে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন নন্দিনী। যদিও রাজবীরের পাল্টা বক্তব্য ছিল, তিনি একটুও ভয় পাননি, শুধু পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এই হাই-ভোল্টেজ ঝগড়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে নন্দিনীকে ‘নাগিন’ তকমা দিতেও দেখা যায় রাজবীরকে।
তবে মজার বিষয় হলো, রিয়ালিটি শোয়ের দুনিয়ায় সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। রবিবারের উইকেন্ড এপিসোডে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে এই সমস্ত বরফ গলে জল হয়ে যায়। ঝগড়া ভুলে তাঁরা ফের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করেছেন। এখন দেখার, রাজবীর আর নন্দিনীর এই রুদ্ধশ্বাস সমীকরণ সামনের দিনে কোন মোড় নেয়!