ভোটের ডিউটি নাকি ইউপিএসসি পরীক্ষা? বিপাকে দিল্লির সরকারি শিক্ষকরা— পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুঙ্গে!

রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) অভিযান ঘিরে একদিকে যেমন জোরকদমে কাজ চলছে, অন্যদিকে তেমনই চরম পেশাগত ও মানসিক সংকটের মুখে পড়েছেন সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। এসআইআর-এর অধীনে বাদ পড়া ভোটারদের নাম যাচাইয়ের কাজে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে শিক্ষক ও শিক্ষকদের একাংশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাঝেই আগামী ১ নভেম্বর নির্ধারিত ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)-এর অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা বহু গুণে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পেছানোর জোরালো দাবি জানিয়ে ইউপিএসসি-কে চিঠি দিয়েছে সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতি (GSTA)।
৮২৮টি শূন্য পদে নিয়োগ ও শিক্ষকদের প্রস্তুতি সংকট
ইউপিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি সরকারের বিভিন্ন স্কুলগুলিতে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ পদে মোট ৮২৮টি শূন্য পদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২৪টি অধ্যক্ষ এবং ৭০৪টি উপাধ্যক্ষ পদ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দিল্লির বহু পিজিটি (PGT) ও টিজিটি (TGT) শিক্ষক এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন এবং ১ নভেম্বর পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু সমস্যা বাঁধে অন্য জায়গায়। জিএসটিএ-র সাধারণ সম্পাদক অজয়বীর যাদব ইউপিএসসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, দিল্লির শিক্ষকরা বিগত এপ্রিল মাস থেকেই একটানা বিএলও এবং বিএলও সুপারভাইজারের অত্যন্ত কঠোর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সরকারি নির্দেশ মেনে এই বাধ্যতামূলক নির্বাচনী কাজ সামলানোর কারণে প্রার্থীরা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পড়াশোনার সময় ও সুযোগ পাচ্ছেন না।
বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি— হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, তাঁরা নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের বাধ্যতামূলক নির্বাচনী কাজ বা বিএলও-র দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়ার কোনো দাবি তুলছেন না। তাঁদের একমাত্র যুক্তিসঙ্গত দাবি হলো, সরকারি দায়িত্বের বেড়াজালে আটকে থাকা শিক্ষক প্রার্থীদের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যেন অন্তত কিছুটা সময় দেওয়া হয়।
অজয়বীর যাদব আরও জানান, স্কুলে নিয়মিত পড়ানোর রুটিনের পাশাপাশি শিক্ষকদের ভোটার তালিকা যাচাই, নথি যাচাই, ফর্ম ফিলআপ, অনলাইনে ডেটা এন্ট্রি এবং নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার মতো কাজ করতে হয়। এই সমস্ত কাজের জন্য স্কুলের আগে ও পরে, এমনকি বিভিন্ন ছুটির দিনেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালাতে হচ্ছে। এর ফলে ১ নভেম্বরের মতো এত বড় সর্বভারতীয় পরীক্ষার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষক সমিতির এই আবেদনে সাড়া দিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিবেচনা করে কি না।