শহীদের কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা! চালক ঘুমিয়ে পড়তেই পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা ট্রাকে— মৃত ৪!

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে রবিবার সকালে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। চণ্ডীগড় বা পাঞ্চকুলা থেকে এক শহীদের মরদেহ নিয়ে তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু পথেই ঘটে এক বিপর্যয়— নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভারী ট্রাকে সজোরে ধাক্কা মারে অ্যাম্বুলেন্সটি। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবার সকালে?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ, হালিয়াপুর থানা এলাকার ৭৯.৬ মাইলস্টোনের কাছাকাছি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাঞ্চকুলা থেকে শহীদ সুবেদার মেজর সত্যবান সিং-এর নশ্বর দেহ ও কফিন নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার দিকে রওনা হয়েছিল। ওই অ্যাম্বুলেন্সে শহীদের পরিবারের দুই সদস্য, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান এবং খোদ অ্যাম্বুলেন্স চালক সওয়ার ছিলেন।
নিহতদের পরিচয়
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা হলেন—
জাসপাল (৩০): অ্যাম্বুলেন্সটির চালক।
সজন সিং (৩৫) ও গৌরব সিং (২৮): শহীদ সুবেদার মেজরের পরিবারের দুই সদস্য।
রাম সমঝ সিং (৪০): কর্তব্যরত সেনা সদস্য।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্রজিৎ সিং, হালিয়াপুর থানার পুলিশ ফোর্স এবং একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শহীদের মরদেহটি আপাতত স্থানীয় থানায় সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটানা দীর্ঘ পথ ড্রাইভ করার ফলে অ্যাম্বুলেন্স চালক সম্ভবত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং স্টিয়ারিংয়ে থাকা অবস্থাতেই তিনি হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। যার ফলে পূর্ণ গতিতে চলা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যে নিহতদের পরিবার এবং সেনাবাহিনীকেও পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
শহীদ সুবেদার মেজর সত্যবান সিং-এর প্রয়াণে পরিবারটি আগে থেকেই শোকে পাথর হয়ে ছিল। এর ঠিক পরপরই এই সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে কান্নার রোল ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি মৃতদেহগুলি গ্রহণ করতে সুলতানপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।