মঞ্চে জলের গ্লাস এগিয়ে দিলেন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’! সচিনের চরম বিনয় দেখে যা করলেন গুলজার, ভাইরাল ভিডিও!

মাঠের বাইশ গজে তিনি ছিলেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার রাজা। কিন্তু ক্রিকেট পিচ ছেড়ে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় কেটে গেলেও সচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এবং তাঁর অমলিন ব্যক্তিত্ব আজও আগের মতোই অটুট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহু বছর আগে অবসর নিলেও তাঁর নামের জৌলুস বর্তমানের যে কোনো তারকা ক্রিকেটারকে অনায়াসে হার মানাতে পারে। ব্যাট হাতে অসংখ্য ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরে তাঁর বিনম্র আচরণ ও সৌজন্যবোধ বারবার প্রমাণ করে কেন তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের ‘ঈশ্বর’। সম্প্রতি তেমনই এক অভাবনীয় ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল মুম্বইয়ের একটি অনুষ্ঠান, যেখানে কিংবদন্তি গীতিকার গুলজারের (Gulzar) প্রতি সচিনের পরম শ্রদ্ধা ও বিনয় উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে দিয়েছে।
মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি মর্যাদাপূর্ণ পাবলিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে দেশের দুই কৃতি সন্তান— প্রবীণ গীতিকার-কবি গুলজার এবং মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন বর্ষীয়ান কবি গুলজার। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ তাঁর গলা শুকিয়ে আসে। কিংবদন্তি গীতিকার তখন সচিনের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করেন, তাঁকে এক গ্লাস জল বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
মাস্টার ব্লাস্টার এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ান। এরপর অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে নিজে হাতে কাঁচের গ্লাসে জল ঢেলে তা গুলজারের দিকে বাড়িয়ে দেন। সচিনের এই অপরিসীম বিনম্রতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যান মঞ্চে উপস্থিত সকলে। জল পান করার সময় প্রবীণ গীতিকার গুলজার পরম স্নেহে সচিনের হাতও ধরে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে এই মিষ্টি ও আবেগঘন ভিডিয়ো ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষাগুরু বাবার শিক্ষা ও সচিনের মনের কথা
সচিনের এই অসম্ভব ভালোমানুষি ও সৌজন্য যে তাঁর পারিবারিক সংস্কার থেকেই এসেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতীতে শিক্ষক দিবসের একটি বিশেষ দিনে নিজের বাবা রমেশ তেন্ডুলকরকে স্মরণ করে এক আবেগঘন পোস্টে সচিন লিখেছিলেন, “আমার বাবা একজন লেখক, কবি এবং অধ্যাপক ছিলেন। তবে তার চেয়েও বড় কথা, তিনি আমার এবং আরও অনেকের কাছে মেন্টর ও গাইড ছিলেন। তিনি আমাকে ক্রিকেট খেলার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, পাশাপাশি শিখিয়েছিলেন সাফল্য যেন কখনও চরিত্রের বিনিময়ে না আসে।”
বাবার শেখানো সেই নীতি আজও যে নিজের জীবনে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন সচিন, এই ছোট্ট ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মাঠের বাইরে তাঁর এই কিংবদন্তিসুলভ অমায়িক ব্যবহার ফের একবার বুঝিয়ে দিল, কেন তিনি কেবল একজন মহান ক্রীড়াবিদই নন, বরং কোটি মানুষের এক চিরকালীন অনুপ্রেরণা।