“ইনস্টা–ইউটিউব ফলোয়ার্সে পিছিয়ে পদ্ম!”-বিরোধীদের টেক্কা দিতে কোন ছক কষছে বিজেপি?

দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রাজনৈতিক ধাক্কা সামলানোর আগেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে নতুন বিপদের ঘণ্টা বাজছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও হু হু করে বাড় ফলোয়ার্স সংখ্যা রীতিমতো কপালে ভাঁজ ফেলেছে বিজেপির শীর্্ব নেতৃত্বের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জ়ি’ (Gen Z)-এর কাছে কংগ্রেসের এই ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা বিজেপির আইটি সেলের উপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসংখ্যানে কে কোথায়?
বিজেপির অন্দরে সংগৃহীত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলিতে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী অনেক আগেই বিজেপিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
-
ইউটিউব: এই প্ল্যাটফর্মে কংগ্রেসের ফলোয়ার্স সংখ্যা বর্তমানে পৌঁছে গিয়েছে ৭৯.৩ লাখে, যেখানে বিজেপির ঝুলিতে রয়েছে ৬৪.২ লাখ।
-
ইনস্টাগ্রাম: জেন জ়ি প্রজন্মের অত্যন্ত প্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের ফলোয়ার্স ১.৫৪ কোটি এবং বিজেপির ফলোয়ার্স ৯৯.২ লাখ। শুধু তাই নয়, খোদ রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ফলোয়ার্সের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬০ মিলিয়নে (১ কোটি ৬০ লক্ষ) গিয়ে ঠেকেছে।
-
এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কী গুঞ্জ’ সমাবেশও সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের পালের হাওয়া বেশ ভালোই গরম করেছে। এমনকী যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র হাত ধরে এই জেন জ়ি বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল, তাদেরও সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার্স এরই মধ্যে আড়াই কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
অবশ্য ফেসবুক এবং এক্স (X) হ্যান্ডলের পরিসংখ্যানে এখনও পর্যন্ত পদ্মশিবির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির ফলোয়ার্স ২.৩০ কোটি এবং ফেসবুকে ১.৬ কোটি। অন্যদিকে, ফেসবুকে কংগ্রেসের ফলোয়ার্স ৬৭ লক্ষ এবং এক্স হ্যান্ডেলে ১.১৫ কোটি। তবে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট ভাবাচ্ছে।
নীতিন নবীনের কড়া নির্দেশ ও আইটি সেলের নতুন চ্যালেঞ্জ
এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নড়েচড়ে বসেছে দল। সম্প্রতি দিল্লির বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ ওয়ার্কশপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের নতুন সভাপতি নীতিন নবীন সাফ নির্দেশ দিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেওয়া যাবে না; বরং সর্বস্তরে তাদের কড়া টক্কর দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মন্ত্রীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জেন জ়ি প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের পর থেকেই বিজেপির অনলাইন পরিসরে ফলোয়ার্সের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল।
এমতাবস্থায়, অমিত মালব্যর স্থলাভিষিক্ত হওয়া দলের নতুন সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দীপক মাস্কের কাছে এটি অন্যতম বড় এক চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের এই ডিজিটাল আগ্রাসন রুখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে বিজেপি নেতৃত্ব এখন ঠিক কী ধরনের নতুন রণকৌশল নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!