৩ হাজার টাকার কাঠের ধনুক দিয়ে শুরু, আজ অলিম্পিকের টিকিট কনফার্ম! ইতিহাস গড়ে কী বললেন কুমকুম মোহোদ?

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতের ১৭ বছর বয়সি উদীয়মান তিরন্দাজ কুমকুম মোহোদ (Kumkum Mohad)। মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ওহ ইয়েজিনকে পরাস্ত করে দেশের হয়ে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন তিনি। এই অভাবনীয় সাফল্যের সুবাদে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিটও পাকা করে ফেলেছেন এই তরুণী সেনসেশন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও শুটআউটের রোমাঞ্চ
এদিনের ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরেই দর্শকদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। নির্ধারিত পাঁচটি সেট শেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্কোর ছিল সমান-সমান। টানটান উত্তেজনার ম্যাচ গড়ায় শুটআউটে। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে দুর্দান্ত শটে ১০-৮ স্কোরলাইনে শুটআউট জিতে নেন কুমকুম। সার্বিকভাবে ৬-৫ স্কোরে দক্ষিণ কোরিয়ার ওহ ইয়েজিনকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, ফাইনালিস্ট হওয়ার সুবাদে প্রতিপক্ষ ইয়েজিনও অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন।

এবারের এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে তিনটি মেডেল জিতে নিজের অভিযান শেষ করেছেন কুমকুম। ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে সোনা জেতার পাশাপাশি তিনি মহিলাদের দলগত ইভেন্টেও সোনা এবং দলগত মিক্সড ইভেন্টে রুপোর পদক অর্জন করেছেন।

৩ হাজার টাকার ধনুক থেকে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে ২০১৮ সালে এক আত্মীয়ের হাত ধরে কোচ প্রফুল্ল ডাঙ্গের ‘রাধে আর্চারি অ্যাকাডেমি’তে তিরন্দাজির প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন কুমকুম। তাঁর প্রথম ধনুকটি ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা দামের একটি সাধারণ কাঠের ভারতীয় ধনুক, যা কেনার টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন তাঁর দিদা। কোভিড অতিমারির সময়েও না থেমে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি। এমনকি সাংহাইতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আর্চারি বিশ্বকাপেও তিনি যে ধনুকটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি ছিল একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড ধনুক, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁর সঙ্গী ছিল।

কঠোর সংগ্রাম আর পরিবারের অবদান
এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কুমকুমের বাবা অনিল মনোহর মোহোদ অমরাবতীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের জন্য কার্ডবোর্ডের বাক্স তৈরি করে সংসার চালান। অর্থনৈতিক সংগ্রামকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে থেকেছেন তিনি। ‘খेलो ইন্ডিয়া’ স্কিমে সুযোগ পাওয়ার পর মেয়ের প্র্যাকটিসের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন সকালে নিজ হাতে বাইকে চাপিয়ে তাঁকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন বাবা।

২০২৬ সালে সিনিয়র আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রেখেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন কুমকুম। সাংহাইতে অনুষ্ঠিত আর্চারি ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেজ ২-এ ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ দলের সদস্য হিসেবে সোনা জিতেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সোনিপতে কঠিন ট্রায়ালের বৈতরণী পার করে কীর্তি শর্মা এবং অঙ্কিতা ভকতদের পেছনে ফেলে এশিয়ান গেমসের মূল স্কোয়াডে নিজের জায়গা পাকা করেন। আজ সেই কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য জেদের ফলেই দেশের মুকুটে নতুন সোনালী পালক জুড়ে দিলেন ১৭ বছরের এই তারকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *