‘শ্রীরামপুরে ঢুকলে পচা ডিম-আলু দিয়ে স্বাগত জানাবেন!’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম আক্রমণ কৌস্তভ বাগচীর

শ্রীরামপুরে বিজেপির ‘যুব গর্জন’ সভা থেকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানাতে গিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সভা থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁকে পচা ডিম, আলু ও টমেটো দিয়ে স্বাগত জানানোর নিদান দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পা ধরে ক্ষমা চাওয়ানোরও প্রকাশ্য হুংকার দিয়েছেন তিনি।

‘ঘেউ ঘেউ সভা’ ও কল্যাণকে বেনজির আক্রমণ
এদিন সভার শুরুতেই নাম না করে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেন কৌস্তভ। তিনি বলেন, “আমি শ্রীরামপুরে সভা করতে আসছি শুনে একজন বলল, ক’দিন আগে অন্য একটা রাজনৈতিক দলও তো সভা করল। অন্য রাজনৈতিক দল বলছি কারণ ওদের আসল নামটা তো জানা নেই—বালিশ চাটা নাকি চটি চাটা! আমাদেরটা যদি যুব গর্জন সভা হয়, তাহলে ওদেরটা ছিল ঘেউ ঘেউ সভা।”

এরপরই সরাসরি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কৌস্তভ বাগচী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে কদর্য ভাষায় কথা বলার সাহস পায় কোথা থেকে? আমি কথা দিচ্ছি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পা ধরে ওঁকে ক্ষমা চাওয়াব, জেনে রাখো।”

কথায় কথায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “ডিমের দাম যদি বেশি মনে হয়, তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর বাজারে যাবেন। অনেক পচা টমেটো-আলু পাওয়া যায়। ওগুলি দিয়ে ভালো করে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করবে আমাদের যুব মোর্চা ভাইয়েরা। ওই সাংসদ যেখানে যেখানে যাবে, তার জন্য যে দাওয়াই প্রয়োজন, যুব মোর্চা তা করবে। শ্রীরামপুরে ঢোকে কোন সাহসে? ও যেন বাড়ি থেকে বেরোতে না পারে।”

‘মার্ডার কেসের আসামি’ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, “ও একটা মার্ডার কেসের আসামি। আগাম জামিন নিয়েছে। আর বলছে এই করব, সেই করব! ওকে তো ওঁর দলের লোকেরাই উকিল বলে মনে করে না, সব মামলাতেই হারে।” এরপর কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, “ওর আরও অনেক গুণ আছে। এখানে ওর এক বিশ্বস্ত সৈনিক আছে পাপ্পু সিং, তাঁর ফ্ল্যাটে কী কী হত?”

পুলিশ ও নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, একহাত নেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনকেও। কৌস্তভের বার্তা, পুলিশ যেন পুরনো ‘প্রেম-পিরিত’ ছেড়ে প্রয়োজনে থানায় এনে ৬ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে।

শেষে দলের শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে কৌস্তভ বাগচী বলেন, “আমাদের মনে অনেক জ্বালা আছে, অনেক যন্ত্রণা আছে। দল আমাদের বেড়ি পরিয়ে রেখেছে। দল যদি আমাদের মোটে দু’ঘণ্টা সময় দিত, ওই বালিশ চাটা-চটি চাটা— ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল কিচ্ছু বুঝতাম না, ঘাসফুল-শিকড় মূল একসপ্তাহের মধ্যে কিচ্ছু থাকত না! আমাদের দলের নেতৃত্ব সৌজন্য দেখিয়েছে বলেই আমরা সংযত আছি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *