ওমান নিষিদ্ধ করেছিল, তবু কীভাবে ককপিটে ঢুকলো? তেল আবিবগামী ফ্লাইটে হামলার নেপথ্যে চরমপন্থী কো-পাইলট!

১৮২ জন যাত্রী নিয়ে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ (Flydubai) বিমানের হামলাকারী কো-পাইলটের আসল পরিচয় অবশেষে প্রকাশ্যে এল। চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে এর আগে ওমান নিজের দেশে তাকে বিমান চালনা থেকে বিরত রেখেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীভিত্তিক এই বিমানসংস্থা তাকে কীভাবে ককপিটে নিয়োগ করল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই আকস্মিক ঘটনার জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটন শিল্প এক মুহূর্তের মধ্যে সঙ্কটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাতিল সমস্ত ফ্লাইট, বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী
এই হামলার পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইজরায়েলের মধ্যে সমস্ত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী উভয় দেশেই আটকে পড়েছেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশই বিশেষ ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, আমিরশাহী থেকে বিশেষ ফ্লাইটগুলি আটকে থাকা যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ‘আর্কিয়া’, ‘ইসরায়ার’ এবং ‘এল আল’-এর মতো বিমানসংস্থাগুলিও বিশেষ পরিষেবা চালু করেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক দাবি
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইজরায়েল ও আরব দেশগুলির সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে দুবাই ইজরায়েলি পর্যটকদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে এই হামলার পেছনে তেহরানের যোগসূত্র থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রমাণ মিললে আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুংকার দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ওই কো-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্রবাদের প্রভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, “তাকে সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালানোর জন্যই পাঠানো হয়েছিল কি না, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। এর নেপথ্যে যারাই থাকুক না কেন, তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।” তবে ইজরায়েলি তদন্তকারীদের পাশাপাশি আমিরশাহীর আধিকারিকরাও এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত থাকলেও এখনও পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো পাকাপাকি যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি।
বড় বিপর্যয় এড়ানোর নেপথ্যে ক্যাপ্টেনের কৃতিত্ব
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই হামলাকে “বিপজ্জনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেছেন। তবে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর জন্য তিনি ফ্লাইটের মূল ক্যাপ্টেনের বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড দমনে আমিরশাহীর প্রশাসনিক সুনাম থাকলেও, এই নিরাপত্তা ত্রুটির ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।