“ক্ষমতা থাকলে জেলে ভরে দেখাক!” মুম্বই ও দিল্লিতে ঝড় তুলল ‘ককরোচ’-দের মেগা আন্দোলন, স্তব্ধ মেট্রো-ইন্টারনেট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতায় এবার দেশের রাজধানী ও বাণিজ্যনগরীতে আক্ষরিক অর্থেই বিস্ফোরণ ঘটাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বৃহস্পতিবার গান্ধী জয়ন্তীর দিনে দিল্লি এবং মুম্বই—এই দুই প্রাণকেন্দ্রে একসঙ্গে বড়সড় বিক্ষোভ ও ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি। আর এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় ও উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ।
দিল্লিতে ধুন্ধুমার ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ
দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালীন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। দিল্লি পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে কমপক্ষে ৫০০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। আটক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তালিকায় ছিলেন আপ নেতা অতিশি, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিং ছাড়াও সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এবং নেত্রী বৃন্দা কারাত। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। জনপথ, পটেল চক, রাজীব চক, মান্ডি হাউস সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
মুম্বইয়ে শিবাজি পার্কে ফড়নবীশকে চ্যালেঞ্জ
অন্যদিকে, মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কেও সিজেপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক আগেই ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে বম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের রায় অনুযায়ী শিবাজি পার্কে রাজনৈতিক জমায়েত করার অনুমতি নেই কারণ এটি একটি ‘সাইলেন্স জোন’, তা সত্ত্বেও দমে যায়নি আন্দোলনকারীরা।
মঞ্চ থেকে সরাসরি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, ক্ষমতা থাকলে শিবাজি পার্কে প্রতিবাদরত আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দেখাক রাজ্য সরকার। সিজেপির এই প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানাতে উপস্থিত হন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শাবানা আজমি। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ফেরানো এবং ‘গো জ্ঞানু, গো’ স্লোগান তুলে এই আন্দোলন যতদিন না দাবি পূরণ হচ্ছে, ততদিন জারি থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।