লস্কর কমান্ডার খতম হতেই পাকিস্তানের চরম নাটক! ‘নকল’ আসিফকে ক্যামেরার সামনে এনে বিশ্বজুড়ে হাস্যাস্পদ ইসলামাবাদ

অপপ্রচার এবং নিজেদের বিশ্ববাসীর সামনে হাস্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, তার আরও একবার প্রমাণ মিলল। ভারতীয় সেনাবাহিনী লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার তথা প্রাক্তন স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (SSG) কমান্ডো মহম্মদ আসিফকে খতম করার ঠিক একদিন পরেই, ভারতের দাবিকে নস্যাৎ করতে এক ‘নকল’ আসিফকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করে পাকিস্তান। কিন্তু তাদের এই অপরিপক্ব ও মরিয়া অপচেষ্টা মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) গবেষকদের সামনে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।
কীভাবে ফাঁস হলো পাকিস্তানের জালিয়াতি?
গত বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হন কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি মহম্মদ আসিফ, যিনি ‘হাশিম মুসা’ বা ‘ফৌজি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। এর ঠিক পরের দিনই পাকিস্তানের আইএসপিআর (ISPR)-এর ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন যে আসিফ বেঁচে আছেন এবং তাঁর সামনে বসা ব্যক্তিই সেই আসিফ।
কিন্তু স্বাধীন বিশ্লেষক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সঙ্গে সঙ্গেই সেই ব্যক্তির সঙ্গে লস্কর কমান্ডার মুসার পুরনো ছবির মুখাবয়ব, কান ও নাকের আকৃতির নিখুঁত তুলনা করে অমিলগুলো ধরিয়ে দেন। ভারতীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তীব্র কটাক্ষ করে জানান, সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরেও পাকিস্তান এক ভুয়ো ব্যক্তিকে হাজির করে নিজেদের মুখে চুনকালি মেখেছে।
কে ছিলেন এই অধরা মহম্মদ আসিফ?
পীর পাঞ্জাল ও কাশ্মীর উপত্যকায় সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূল হোতা ছিলেন এই মুসা। ২০২৫ সালের পাহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় যুক্ত থাকা চার লস্কর জঙ্গির মধ্যে তিনিই ছিলেন শেষ জীবিত ব্যক্তি। অতীতে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের নিরাপত্তা দলের সদস্য এবং বালুচিস্তানে বিদ্রোহ-দমন অভিযানে অংশ নেওয়া অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এই জঙ্গির মৃত্যু জম্মু ও কাশ্মীরে লস্করের নেটওয়ার্কের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। আর সেই ধাক্কা ঢাকতেই পাকিস্তানের এই হাস্যকর নাটক বিশ্বজুড়ে তাদের অপদার্থতাই ফের একবার প্রমাণ করে দিল।