বারবার প্রস্রাব পাওয়া থেকে পা ফোলা—কিডনি বিকল হওয়ার আগে কোন মারাত্মক লক্ষণগুলি দেখা দেয় জানেন?

আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সচল রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে কিডনি। রক্ত, খাবার এবং জল থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শুষে নেওয়ার পাশাপাশি যাবতীয় দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য শরীর থেকে বাইরে বের করে দেয় এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা বিশ্বেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা সিকেডির (CKD) মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কিডনি রোগ নিজের থাবা খুব নীরবে বসায়। বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগে সাধারণত এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি সহজে বোঝাই যায় না। যখন রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করার ক্ষমতা কিডনি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে, তখনই মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া এবং শরীরের দেওয়া সতর্কবার্তাগুলি চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীর যে সমস্ত প্রধান সংকেতগুলি দেয়:

  • পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব: কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পা, গোড়ালি, মুখ বা হাতে জল জমে ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

  • প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন: রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়া, প্রস্রাবের রং অতিরিক্ত গাঢ় হওয়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া কিডনি বিকল হওয়ার অত্যন্ত স্পষ্ট এবং গুরুতর সংকেত। পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরও যদি প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • রক্তাল্পতা ও চরম ক্লান্তি: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকে, যার ফলে লোহিত কণিকা কমে গিয়ে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়। এর জেরে সারাক্ষণ ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে ওঠার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া ‘এরিথ্রোপোয়েটিন’ নামক হরমোনের ভারসাম্যে গোলমাল দেখা দিলেও কিডনির ক্ষতি তরান্বিত হয়।

  • ত্বকে মারাত্মক শুষ্কভাব ও চুলকানি: শরীর থেকে টক্সিন বা ক্ষতিকর বর্জ্য বের হতে না পারলে তা রক্তে জমতে শুরু করে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে ত্বকের ওপর। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অসহ্য চুলকানি ও র‍‍্যাশের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • শ্বাসকষ্টের সমস্যা: কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। পাশাপাশি রক্তাল্পতার জেরে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়।

কীভাবে রক্ষা পাবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস ব্লাডারে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ইউটিআই (UTI)-এর ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কাও তৈরি হয়। অন্যদিকে, রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ফিল্টারিং ইউনিটগুলিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রায় সঠিক বদল আনাই কিডনি সুরক্ষার একমাত্র চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *