জম্মু-কাশ্মীরে বড় ধাক্কা সন্ত্রাসবাদীদের! নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে নিকেশ ৫ পাকিস্তানি জেহাদি

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ দমনে নজিরবিহীন সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। গত সেপ্টেম্বর মাসে উপত্যকায় চালানো ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযানে ৫ জন কুখ্যাত পাকিস্তানি সন্ত্রাসীকে নিকেশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, উপত্যকায় একসময়ে যেখানে সক্রিয় বা লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীর সংখ্যা ৭০ থেকে ১০০ জনের মধ্যে ঘোরাফেরা করত, তা এখন একলাফে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ থেকে ৩২ জনে।

নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার মেগা অপারেশন

গত সেপ্টেম্বর মাসেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় প্রায় ১২টি বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কাশ্মীরের ঘন জঙ্গল থেকে শুরু করে জম্মুর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল—সব জায়গাতেই নিখুঁত অপারেশন চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বুদগামের ইউসমার্গ এলাকায় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান, যেখানে লস্করের পাকিস্তানি কমান্ডার হাশিম মুসা ওরফে ফৌজি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়। পাশাপাশি, উধমপুরে ‘অপারেশন সোহান’ চলাকালীন জইশ-e-মোহম্মদের দুই পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও মুস্তফাকেও নিকেশ করা হয়েছে। ডোভা, কিশতওয়ার, উধমপুর এবং পীর পাঞ্জাল অঞ্চলের দুর্গম জঙ্গলগুলিতে জঙ্গিদের মূল আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এখন সরাসরি আক্রমণ চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী।

অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের সিংহভাগই বিদেশি

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপত্যকায় যে ২৮ থেকে যার ৩২ জন সন্ত্রাসী লুকিয়ে রয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি জঙ্গি। এর বিপরীতে স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা মাত্র পাঁচজনের মতো বলে অনুমান করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে কিশতওয়ার, ডোডা-উধমপুর-কাঠুয়া এবং দক্ষিণ কাশ্মীরে বিক্ষিপ্তভাবে লুকিয়ে রয়েছে।

শুধু জঙ্গি নয়, টার্গেটে পুরো নেটওয়ার্ক

নিরাপত্তা বাহিনী এখন কেবল অস্ত্রধারী জঙ্গিদের খতম করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তাদের তৈরি করা ভূগর্ভস্থ যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, রসদ সরবরাহকারী এবং আশ্রয়দাতাদেরও চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের ডিজিপি নলিন প্রভাত এবং সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ড, হোয়াইট নাইট কোর ও ডেল্টা ফোর্সের যৌথ নজরদারিতে এই অভিযান চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই মেগা অপারেশনের মূল লক্ষ্য হলো উপত্যকা থেকে সন্ত্রাসবাদের শিকড় একেবারে উপড়ে ফেলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *