ভোটের আগে বড় মাস্টারস্ট্রোক! দুয়ারে সরকারের আদলে কলকাতায় শুরু ৩ দিনের ‘সেবা সেতু শিবির’

গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে কলকাতায় শুরু হয়ে গেল মেগা নাগরিক পরিষেবা শিবির—‘সেবা সেতু শিবির’। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই তিন দিনের বিশেষ ক্যাম্প ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। বিগত দিনে তৃণমূল সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচেই মূলত এই ‘সেবা সেতু শিবির’-এর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে এক ছাদের তলায় ১৫টি দফতর ও বিভাগের মোট ৪৭টি পরিষেবা এবং প্রকল্পের সমস্যার সুরাহা মিলবে।

কোথায় এবং কীভাবে মিলছে পরিষেবা?

কলকাতা কর্পোরেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি বরোতে ৩টি করে মোট ১৫৭টি শিবির করা হচ্ছে। প্রতি ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডকে নিয়ে একটি করে এই ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। শুরুর দিনেই বিভিন্ন শিবিরে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন ও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এই শিবিরগুলিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নাগরিকদের আবেদনপত্র পূরণ থেকে শুরু করে তা জমা নেওয়া—সবটাই করছেন সরকারি কর্মীরা। অনগ্রসর শ্রেণির ভাতা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম সূর্য বীমা যোজনা, পিএম গরিব কল্যাণ ও রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা-১ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সুবিধা মিলছে এখানে। পাশাপাশি স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং গাছের চারা বিতরণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার স্ক্রিনিংয়ের জন্যও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত স্বাস্থ্য বীমা এবং বিভিন্ন ভাতার আবেদনকারীদের সংখ্যাই প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

নির্বাচনের আগে জনরোষ এড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশনগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাই ভোটের ঠিক আগে শহরের নাগরিকদের মনে জমে থাকা যে কোনো ধরনের ক্ষোভ বা অসন্তোষ দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে চাইছে প্রশাসন। যাতে আসন্ন নির্বাচনে সেই ক্ষোভের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ইভিএমে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এক ছাতার তলায় এতগুলি পরিষেবা নিয়ে এই বিশাল আয়োজন।

কলকাতা কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শহরের বহু নাগরিক এই শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। এক ছাদের তলায় এতগুলি পরিষেবা একযোগে পাওয়ার সুবিধা অতীতে এভাবে মেলেনি। প্রথম দিনের সাড়া দেখে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, যাদেরই সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে, এই ৩ দিনের মধ্যে তাদের বেশিরভাগেরই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *