জেনেভায় তীব্র কোণঠাসা পাকিস্তান! রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে লস্কর-জইশ যোগ ও সন্ত্রাস নিয়ে উঠল বিস্ফোরক সব অভিযোগ

সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের একবার চরম কোণঠাসার মুখে পড়ল পাকিস্তান। সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং মদতপুষ্ট সন্ত্রাস নিয়ে সরব হয়েছেন বিশ্বের বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও এই বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

‘ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’-এর বিশেষ আলোচনা চক্র বৃহস্পতিবার জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরে ‘ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’-এর উদ্যোগে “ফাইট এগেইনস্ট টেররিজম অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস” শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বিরো দিয়াওয়ারার সঞ্চালনায় আয়োজিত এই বৈঠকে সাইপ্রাস, ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম, তাঞ্জানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রিক পার্লামেন্টের সদস্য জর্জিওস মানউস, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টুডে’-র সম্পাদক গ্যারি কার্টরাইট, প্যারিসের ‘আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রেসিডেন্ট স্টিফেন মিশট এবং ‘হিমালয়ান রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন’-এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক কে. ওয়ারিকু। এছাড়া ইরাকের আল-হাকিম ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আম্মার আল-হাকিম ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য রাখেন।

ইউরোপের তহবিল ও লস্কর-জইশ যোগ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংবাদিক ও সম্পাদক গ্যারি কার্টরাইট পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রসঙ্গ জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা থেকে শুরু করে গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য দেশে অস্থিরতা তৈরির পেছনে এই নেটওয়ার্কগুলির হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ইউরোপীয় কমিশনের একটি তথ্যের উল্লেখ করে তিনি জানান, পাকিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকল্প ও মাদ্রাসার তহবিলের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের ‘জিএসপি প্লাস’ (GSP+) বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত রাখার জোরালো দাবি তোলেন তিনি।

সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ব্লাসফেমি আইনের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র আক্রমণ বৈঠকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চলা অত্যাচরের চিত্রও তুলে ধরেন গ্রিক সাংসদ জর্জিওস মানউস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পাকিস্তানকে কেবল সন্ত্রাসবাদের শিকার দেশ হিসেবে দেখলে ভুল হবে, বরং এটি এমন একটি রাষ্ট্র যেখান থেকে সরাসরি জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম হামলা সহ অতীতে ভারতের মাটিতে ঘটা বিভিন্ন নাশকতার পেছনে পাকিস্তানি যোগের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, জোর করে ধর্মান্তরকরণ, এবং ব্লাসফেমি আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মানউস। সব মিলিয়ে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিই প্রতিধ্বনিত হয়েছে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *