রেলযাত্রীদের নিরাপত্তায় বিরাট পদক্ষেপ! আজিমগঞ্জে মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যারাক ও নবদ্বীপে অত্যাধুনিক RPF অফিসের উদ্বোধন

পূর্ব রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করা এবং রেলকর্মীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলো। পূর্ব রেলের প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার (PCSC) শ্রী এ. এন. সিনহা এবং হাওড়ার সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার (SrDSC) শ্রী চোক্কা রঘুবীরের উপস্থিতিতে আজিমগঞ্জে নবনির্মিত মহিলা ট্রেন এসকর্ট (TE) ব্যারাক এবং নবদ্বীপে একটি অত্যাধুনিক RPF অফিসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
আজিমগঞ্জে মহিলা এসকর্টদের জন্য বিশেষ স্থায়ী ব্যারাক রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আজিমগঞ্জে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই নবনির্মিত মহিলা TE ব্যারাকটি মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক আবাসের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এতদিন অস্থায়ী ব্যবস্থা থাকলেও এবার পাকাপাকিভাবে তৈরি এই ব্যারাকে করিডর-সহ দুটি কক্ষ রয়েছে, যেখানে এককালীন সর্বোচ্চ ১০ জন কর্মী স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। খাট, টেবিল, চেয়ার ও আলমারির মতো প্রয়োজনীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধে দিয়ে এই ব্যারাকটি সাজানো হয়েছে। এটি শুধু আজিমগঞ্জে কর্মরত মহিলা নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, বরং মালদা ডিভিশন এবং অন্যান্য পোস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করতে আসা ট্রেন এসকর্টদের বিশ্রামের জন্যও ব্যবহৃত হবে। এর ফলে দীর্ঘ ডিউটির পর কর্মীরা যথাযথ বিশ্রামের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করবে।
নবদ্বীপে হাই-টেক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন RPF অফিস অন্যদিকে, নবদ্বীপে চালু হলো একটি সম্পূর্ণ সুসজ্জিত ও আধুনিক RPF অফিস। পূর্বের অস্থায়ী বন্দোবস্তের বদল ঘটিয়ে এই নতুন পরিকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনকে মাথায় রেখে। এই নতুন অফিসে পুরুষ ও মহিলা—উভয়ের জন্যই পৃথক লক-আপ বা হাজত ঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি, সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি ব্যবস্থা। এছাড়াও রয়েছে ইন্সপেক্টরের চেম্বার, অধস্তন আধিকারিকদের কক্ষ, রেকর্ড রুম, মহিলা চেঞ্জিং রুম, মালখানা, তদন্ত সেল এবং আলাদা ব্রিফিং এলাকা।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, রেলের এই নবনির্মিত পরিকাঠামোগুলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ ও দক্ষ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রেলের নিরন্তর প্রচেষ্টারই এক বাস্তব প্রতিফলন। আধুনিক বিন্যাস ও পরিকাঠামোর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মে আরও গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।