৩৭ লাখ থেকে সোজা ১ লক্ষ ৪৪ হাজার! নজরুলের মহোৎসবে খরচের বহর দেখে চক্ষু চড়কগাছ, কাঠগড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

দুর্গাপুজোর ভুয়ো টিকিট পাস বিক্রি এবং আর্থিক দুর্নীতির জল গড়ানোর পর এবার আরও এক বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। শিশির মঞ্চে নজরুল মহোৎসব পালনের জন্য বিগত বছরগুলির খরচের হিসাব সামনে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র শোরগোল। দুই বছরের খরচে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের জেরে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
খরচের বিশাল ব্যবধান ও অভিযোগের নেপথ্যে কী? তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, শিশির মঞ্চে নজরুল মহোৎসব উদযাপনের পেছনে ২০২৫ সালে মোট খরচ দেখানো হয়েছিল ৩৭ লাখ ৯২ হাজার ৫৩ টাকা। সেই সময় দফতরের দায়িত্বে ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু চলতি বছরে ঠিক একই অনুষ্ঠান করতে গিয়ে খরচ নেমে এসেছে মাত্র ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে খরচের এই বিপুল পরিমাণ তারতম্য (প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার বেশি ফারাক) ঘিরেই মূলত দানা বেঁধেছে বিতর্ক।
অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল আর্থিক তছরুপ এবং গরমিলের পেছনে কেবল সাবেক মন্ত্রীর নামই জড়িয়ে নেই, বরং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক আধিকারিকের ভূমিকাও সন্দেহজনক। অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে শিশির মঞ্চের আধিকারিক তপন তরফদারের নামও। তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারের একাধিক সদস্যকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগপত্র জমা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।
ইডির স্ক্যানারে একাধিক চাঞ্চল্যকর লেনদেন উল্লেখ্য, এর আগে পুজোর প্রিভিউ শো-এর নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি, ইউনেসকোর নাম ভাঙিয়ে আর্থিক জালিয়াতি এবং তৎকালীন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘Octave Records’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এনেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তাই নয়, পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের টেন্ডার বণ্টন এবং বেনিফিসিয়ারি সংস্থার সঙ্গে সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নিয়েও জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।