‘এক দেশ এক ভোট’ বিল নিয়ে বিরাট ধাক্কা!-ভেস্তে গেল সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদীয় কমিটির মেগা মিটিং!

‘এক দেশ এক ভোট’ (One Nation, One Vote) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসি-র (JPC) সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রস্তাবিত হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেল। বিরোধীদের তীব্র আপত্তি এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কার ফলেই এই বৈঠক বাতিল বলে শীর্ষ আদালত সূত্রে জানা গেছে। ভবিষ্যতে এই বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা হতে পারে, এই যুক্তিতেই বিচারপতিদের সঙ্গে এই বৈঠক করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন বাতিল হলো বৈঠক?

সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আগামী ৬ অক্টোবর জেপিসির সঙ্গে বিচারপতিদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে বিচারপতির নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। বিচারপতিদের মত, যেহেতু এই আইন ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, তাই এই বিলের প্রশাসনিক বা অন্য দিকগুলি নিয়ে বিচারবিভাগের সদস্যদের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির আলোচনা করাটা সংগত হবে না।

আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কপিল সিবাল

এই প্রস্তাবিত বৈঠক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে রাজ্যসভার সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যে আইন বা বিল ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন হতে পারে, সেই আইন নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কী করে বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন? সিবালের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’ এবং ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পরিপন্থী। জেপিসির এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

২০২৯-এর লক্ষ্য ও বিরোধীদের আক্রমণ

লোকসভা ও বিধানসভা একসঙ্গে করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এই ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলটি এনেছে, যা বর্তমানে সংসদের জেপিসির বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরীর আশা ছিল, ২০২৮ সালের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে বিলটি পাস করা সম্ভব হলে, ২০২৯ সালে লোকসভা ভোটের সঙ্গেই ইচ্ছুক রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচন করিয়ে নেওয়া যাবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনও ক্ষতি হবে না।

তবে বিরোধীদের পালটা যুক্তি, দেশের আসল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলি থেকে জনগণের নজর ঘোরাতেই সরকার এই ধরনের বিতর্কিত বিষয় সামনে আনছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর ‘এক দেশ এক ভোট’ বিলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *