‘কোথা থেকে এত সাহস পেলেন?’ মোদীর প্রশ্নে হনুমান চালিশার প্রসঙ্গ টানলেন ‘হিরো’ স্মিত

মাঝআকাশে ককপিটের ভেতর তখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক ভারতীয় পাইলট। শরীরে একের পর এক আঘাত, ফিনকি দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত, আর হু হু করে নীচের দিকে নামছে বিমান! সামনে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও এক ফোঁটা হাল ছাড়েননি ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে অলৌকিক সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে কীভাবে ফ্লাইট FZ1073-এর ভবিতব্য বদলে দিয়েছিলেন তিনি? ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই ‘নায়ক’-কে সরাসরি ফোন করে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

“হনুমান চালিশা জপ করছিলাম”: স্মিত মচ্ছর

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রায় নয় মিনিট ধরে টেলিফোনে বার্তালাপে উঠে আসে সেই ভয়ঙ্কর রাতের রোমহর্ষক বিবরণ। প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে চান, এত বড় বিপদের মধ্যেও তিনি কীভাবে মনের জোর ধরে রেখেছিলেন, তখন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আহত ক্যাপ্টেন।

স্মিত প্রধানমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল এবং তাঁর মনে হচ্ছিল তিনি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন, তখন তাঁর একমাত্র ভরসা ছিল ভগবান। স্মিত বলেন, “যখনই আমি কোনও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তখন হনুমান চালিশা পাঠ করি। সেই সময়েও আমি মনে মনে হনুমান চালিশা পড়ছিলাম।”

তিনি আরও জানান, একের পর এক কোপ সত্ত্বেও তিনি জানতেন জ্ঞান হারালে চলবে না। শেষ চেষ্টা করে কো-পাইলটকে সরিয়ে কোনওমতে ককপিটের দরজাটা খুলে দিয়েছিলেন তিনি। আর তাঁর ওই শেষ মুহূর্তের তৎপরতাই কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ করে দিয়েছিল।

“আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন,” প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

স্মিতের কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা শুনে তাঁর চরম সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “সঙ্কটের মুহূর্তে আহত অবস্থাতেও আপনি যে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছেন, তা অসাধারণ। আপনার জন্যই এত মানুষের প্রাণ বেঁচেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা অন্যরকম মোড় নিলে গোটা বিশ্বের সামনে ভারতীয় পাইলটদের দিকে আঙুল উঠতে পারত। কিন্তু স্মিত নিজের জীবন বিপন্ন করে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ভারতীয়রা অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পিছপা হন না।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলের পাশে থাকা মা গীতা বেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সংস্কার ও শিক্ষারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে স্মিতের বাবা ভূপেন্দ্র, মা গীতা এবং স্ত্রী সোনালের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, দুবাই এবং সৌদি আরবের চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদী।

“আপনিই আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ”

প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে এমন সরাসরি ফোন ও বাহবা পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ক্যাপ্টেন স্মিত। হাসপাতালের বিছানা থেকেই তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও গর্বের মুহূর্ত। স্মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “স্যার, আপনিই আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ। এই বিপদের দিনে আপনি যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি বাকরুদ্ধ।”

রক্তাক্ত শরীর আর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক ভারতীয় সন্তানের এই অসামান্য সাহসিকতার গল্প এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *