‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই কংগ্রেস করব, কিন্তু…’ অধীরের অফার ঘিরে জোর জল্পনা

রাজনৈতিক মহলে ফের জল্পনার পারদ চড়িয়ে দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে ফের কংগ্রেসেই ফিরতে চলেছেন? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক বৃত্তে। কারণ, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী নিজেই সরাসরি মমতাকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্যে কংগ্রেস লড়াই করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অধীরের বিস্ফোরক প্রস্তাব: “সব নিয়ে কংগ্রেসে আসুন”

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমীকরণ এবং সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতার সখ্য ঘিরে নানা জল্পনা চলছে। এর মাঝেই অধীর চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বা সরাসরি মন্তব্য করেছেন, বারবার জোটের জটিলতায় না গিয়ে মমতার সরাসরি কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত।

অধীরের কথায়, “আপনার সব সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে আসুন। নেতৃত্ব দিন, আমরা মেনে নেব। লোটাকম্বল সব নিয়েই আসুন। কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে যখন আসতে চাইছেন, আসুন।” তবে একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “কিন্তু ব্যাগপত্রটি (Baggage) বাদ দিয়ে আসতে হবে।” যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ‘ব্যাগপত্র’ বলতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ বা দলীয় সমীকরণের কথা ইশারা করেছেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে নাম নেননি তিনি।

মমতার নেতৃত্ব মানতেও রাজি অধীর!

তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো একসময় কংগ্রেসেরই নেত্রী ছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। সেই পুরনো স্মৃতি উসকে অধীর জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে ফিরে এলে তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তিনি এও জানান যে, এই প্রস্তাব তিনি দলের হাইকম্যান্ডের কাছেও পেশ করবেন।

নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ ও সমীকরণ

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের হাতে কংগ্রেস কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। ফলে হঠাৎ করে দিল্লিস্ত স্তরে জোট হলেও নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হিসেবেই অধীরের এই পরামর্শ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, অধীরের এই অপ্রত্যাশিত বার্তার পর শাসক শিবির বা খোদ মুখ্যমন্ত্রী কী প্রতিক্রিয়া দেন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *