ক্লাসরুমে সহপাঠীর ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড! কলকাতার নামী স্কুলের সেই নবম শ্রেণির ছাত্র এখন কেমন আছে জানেন?

শহরের প্রথম সারির নামজাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে গোটা শহর। বুধবার ক্লাস চলাকালীন বই নিয়ে তুচ্ছ বিবাদ কীভাবে এক ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী থেকেছে স্কুল চত্বর। নবম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে সহপাঠীকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এক ছাত্র। তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই খুদে পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা এবং গোটা ঘটনায় স্কুল ও হাসপাতালের অবস্থান কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।

কেমন আছেন আহত পড়ুয়া? জানাল হাসপাতাল

সহপাঠীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। রুবি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বুধবার যখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার গলা এবং বাঁ হাতের একাধিক আঙুলে গভীর কাটা জখম ছিল।

হাসপাতালের প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডা. দীপাঞ্জন দে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, গলার ক্ষতটি বেশ গভীর ছিল এবং তা মুখের দিক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে নীচের পেশিতে আঘাত হেনেছিল। এছাড়া বাঁ হাতের তর্জনীর এক্সটেনসর টেন্ডনসহ অন্যান্য আঙুলেও গুরুতর ক্ষতচিহ্ন ছিল। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সমস্ত আঘাতের সফল চিকিৎসা করা হয়েছে। এদিকে ছেলের ওপর এমন মর্মান্তিক হামলার পরেও সাহসী বাবা জানিয়েছেন, ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি তাকে ওই স্কুলেই ফিরিয়ে দেবেন। পাশাপাশি, অভিযুক্ত ছাত্রটিরও যাতে সঠিক ‘মানসিক সংশোধন’ হয়, সেই কামনা করেছেন তিনি।

কী বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ?

এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি ও পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খুলেছে সাউথ পয়েন্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আহত ছাত্রটি বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। নিয়মিতভাবে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে। স্কুলেও পঠনপাঠন স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠা অন্য ছাত্রটির বিষয়েও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে আপাতত স্কুলে না পাঠিয়ে বাড়িতে রেখে পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর মাধ্যমে কাউন্সেলিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেয়, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আগামী সপ্তাহে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *