গোড়ালি ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে? ভুলেও এই একটি জিনিস লাগাবেন না, হতে পারে মারাত্মক বিপদ!

শীতকাল আসার আগেই অনেকের গোড়ালি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, গোড়ালি থেকে রক্তপাত ও হাঁটার সময় তীব্র ব্যথাও অনুভূত হয়। ধুলোবালি, খালি পায়ে হাঁটা, কিংবা শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির কারণে এই সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করে। অনেকেই ভাবেন, পা ফাটা রোধ করতে লেবু ঘষলে বুঝি দ্রুত উপকার মিলবে। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে সতর্ক করছেন।
কেন গোড়ালিতে ভুলেও লেবু ঘষবেন না? লেবুতে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। ফাটা গোড়ালির মধ্যে অসংখ্য ছোট ছোট ক্ষত বা কাটা দাগ থাকে, যেখানে লেবুর রস লাগলে প্রচণ্ড জ্বালা করে। অ্যাসিডের প্রভাবে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা আরও নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ফাটল গভীর হতে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ক্ষত অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
রাতের বেলা কোন টোটকায় মিলবে সুরাহা? দামি কোনো ক্রিমের প্রয়োজন নেই, ঘরের সহজলভ্য কিছু উপাদান দিয়েই গোড়ালি শিশুর মতো নরম করা সম্ভব।
-
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১ চামচ ভেসলিন (পেট্রোলিয়াম জেলি), ১ চামচ খাঁটি নারকেল তেল, ১টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এবং এক জোড়া সুতির মোজা।
-
পদ্ধতি: প্রথমে ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য শ্যাম্পু ও লবণ মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পিউমিস স্টোন দিয়ে আলতো করে মরা চামড়া তুলে ফেলুন। পা ভালোভাবে মুছে ভেসলিন, নারকেল তেল ও ভিটামিন ই ক্যাপসুলের মিশ্রণটি গোড়ালির ফাটা জায়গায় মোটা করে লাগান। এরপর সুতির মোজা পরে ঘুমিয়ে পড়ুন।
টানা ৩ থেকে ৪ দিন এই নিয়ম মেনে চললে পুরনো থেকে পুরনো ফাটাও অনেকটাই কমে যাবে এবং গোড়ালি হয়ে উঠবে মসৃণ। তবে যদি পা ফাটা থেকে ক্রমাগত রক্তপাত বা পুঁজ বের হয়, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।