হাতে সার্টিফিকেট আর মিলবে চাকরির সুযোগ! বেকার যুবকদের জন্য বিরাট মোক্ষম সুযোগ আনল কেন্দ্র

দেশের যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হল ‘প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা’ (PMKVY)। দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটি ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মোপযোগী করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও পরিধি

‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ (NSDC)-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই ফলভিত্তিক প্রশিক্ষণে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতী সাফল্য পেয়েছেন। প্রচলিত প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিল্পক্ষেত্রের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

কী ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে?

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই প্রকল্পে মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়:

  • স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (Short-Term Training): স্কুল-কলেজছুট এবং বেকার যুবকদের জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে কাজের জায়গায় বাস্তব অভিজ্ঞতা বা ‘অন-দ্য-জব ট্রেনিং’-এর সুযোগ থাকে।

  • পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (RPL): যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই কিন্তু নির্দিষ্ট কাজে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের দক্ষতার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

  • বিশেষ প্রকল্প (Special Projects): কর্পোরেট বা সরকারি পরিকাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়।

আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর

বর্তমান ডিজিটাল যুগে চাকরির বাজার ধরতে গতানুগতিক কোর্সের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, থ্রি ডি প্রিন্টিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যাধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং গ্রিন এনার্জির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতেও যুবকদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

আর্থিক সাহায্য ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন এবং শংসাপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। সফল প্রার্থীদের ‘স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল হাব’-এর শংসাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া মহিলা ও বিশেষ সক্ষম প্রার্থীদের জন্য যাতায়াত ও থাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনাজনিত বিমা সুরক্ষা এবং চাকরির বাজারে প্লেসমেন্টের সুব্যবস্থা রয়েছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বেকার যুবক-যুবতী এবং পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীরা এতে অগ্রাধিকার পান। অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে খুব সহজেই নিকটবর্তী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুঁজে নিয়ে নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *