১০-১৫ লাখ টাকার হোম লোনের দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহকরা, জেনেনিন কেন বাড়ছে চাহিদা?

কম আয় এবং সীমিত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও দেশের ছোট শহরগুলিতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার হোম ঋণের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ গ্রাহকদের এই চাহিদা মেটাতে ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানি’ বা এএইচএফসি (AHFC)-গুলির পাশাপাশি এবার বড় আকারের নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC) এবং অন্যান্য হাউজিং ফাইন্যান্স সংস্থাগুলিও ময়দানে নেমে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
ছোট শহরের গ্রাহকদের ওপর বিশেষ জোর
সম্প্রতি ‘সিস্টেমেট্রিক্স’ (Systematix)-এর প্রকাশিত একটি শাখাভিত্তিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি গ্রাহক মূলত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার লোন সেগমেন্টের আওতায় রয়েছেন। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিতে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিয়ার-২ ও ছোট শহরগুলির এই সমস্ত গ্রাহকদের নিয়মিত আয় থাকলেও, সেই আয়ের সপক্ষে সবসময় পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল নথি থাকে না। ফলে প্রথাগত বা বড় ব্যাংকগুলি থেকে লোন পাওয়া তাঁদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই ফাঁক পূরণ করতেই ছোট শহরের এই বাজারে এখন লোন বিতরণে কোমর বেঁধে নেমেছে ছোট ও বড় ঋণদাতা সংস্থাগুলি।
আয় যাচাই ও এলটিভি (LTV) সংক্রান্ত কড়াকড়ি
সীমিত নথি থাকা গ্রাহকদের লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাগুলি বেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করে। কোনো গ্রাহক মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয়ের দাবি করলেও, যাচাইয়ের পর হিসাবযোগ্য আয় অনেক সময় তার কাছাকাছি বা কিছুটা কম ধরা হয়। তবে যাঁদের দীর্ঘদিনের চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং অতীতে নিয়মিত কিস্তি শোধ করার রেকর্ড আছে, তাঁরা কিছুটা অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এছাড়া সম্পত্তির মোট মূল্যের তুলনায় ঋণ দেওয়ার অনুপাত বা LTV সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়। শুধু ব্যক্তিগত আয় নয়, পরিবারের মোট আয়, আয়ের বিকল্প উৎস এবং কর্মস্থল সরেজমিনে যাচাই করেই লোন মঞ্জুর করা হয়।
বাড়ছে তীব্র প্রতিযোগিতা
বাজারে এই সেগমেন্টের চাহিদা থাকায় পিরামল হাউজিং ফাইন্যান্স, চোলামণ্ডলম, টাটা ক্যাপিটাল, মাহিন্দ্রা ফাইন্যান্স, রেপকো হোম ফাইন্যান্সের মতো বড় বড় সংস্থাগুলির মধ্যেও প্রতিযোগিতা তুঙ্গে উঠেছে। শুধু কম সুদের হার দেওয়াই নয়, বরং দ্রুত লোন অনুমোদন এবং স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী শাখা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে এই সংস্থাগুলি। তবে বহু পুরনো শাখাগুলিতে ব্যবসার বৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ায়, সংস্থাগুলি এখন নতুন শহর ও নতুন বাজার দখলের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে ছোট শহরের এই হোম লোন বাজারে প্রতিযোগিতা আরও যে তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।