নবরাত্রিতে অক্সিডাইজড গয়না পরার আগে এই ভুলটি করছেন না তো? মুহূর্তে নষ্ট হতে পারে আপনার শখের জুয়েলারি!

নবরাত্রিতে গরবা খেলার প্রস্তুতি মানেই সাজসজ্জার এক আলাদা উন্মাদনা। আর এই ঐতিহ্যবাহী সাজে লেহেঙ্গা বা চানিয়ার সঙ্গে অক্সিডাইজড গয়না পরার চল বেশ দীর্ঘকালীন ও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের গয়নার সূক্ষ্ম কারুকাজের খাঁজে খাঁজে ধুলো-ময়লা জমে গয়নাটি অনেকটাই কালচে বা মলিন হয়ে যায়। যেহেতু অক্সিডাইজড গয়নার মূল সৌন্দর্য এর হালকা ও গাঢ় রঙের নিখুঁত বৈপরীত্যের ওপর নির্ভর করে, তাই জোরে ঘষামাজা করলে বা কড়া কোনো পরিষ্কারক ব্যবহার করলে নকশার ভিতরের সেই বিশেষ গাঢ় আভা বা ফিনিশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সবসময় আলতোভাবে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

উৎসব বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে জমকালো সাজে এই গয়না পরে আমরা অনেক সময় তা অসাবধানতাবশত বাক্সে তুলে রাখি। পরবর্তী সময়ে যখন গয়নাটি আবার পরার জন্য বের করা হয়, তখন দেখা যায় তার খাঁজে খাঁজে মেকআপ, ঘাম ও ধুলোবালি জমে একাকার হয়ে আছে। গয়নাটিকে একদম নতুনের মতো চকচকে করার অতিরিক্ত চেষ্টা না করে, বরং কোথায় ময়লা জমেছে তা চিহ্নিত করে আলতোভাবে তা পরিষ্কার করার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ কড়া ক্লিনজার ব্যবহার করলে অক্সিডাইজড রুপোর সেই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাঢ় ফিনিশ খুব সহজেই উঠে যেতে পারে।

ঘরে বসে কীভাবে অক্সিডাইজড গয়না পরিষ্কার করবেন?
১. শুকনো কাপড়ের ব্যবহার: শুরুতেই একটি পরিষ্কার, নরম ও শুকনো সুতির কাপড় নিন। কানের দুলের পিছনের অংশ, গলার হারের চেইন এবং আংটির ভিতরের দিকগুলি খুব আলতো করে মুছে নিন। মূলত ত্বকের সংস্পর্শে আসার ফলেই এই জায়গাগুলিতে সবচেয়ে বেশি ঘাম, ক্রিম বা লোশনের অবশিষ্টাংশ জমে থাকে। এমনকি কাপড়ে দৃশ্যমান কোনো ময়লা না লাগলেও, গয়না প্রতিবার ব্যবহারের পর তা আলতো করে মুছে রাখার অভ্যাস করলে গয়না অনেক দিন ভালো থাকে।

২. নরম ব্রাশের সঠিক ব্যবহার: যদি গয়নার সূক্ষ্ম কারুকাজের ভিতর জেদি ধুলো জমে থাকে, তবে খুব নরম ও পরিষ্কার একটি মেকআপ বা বেবি ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। যে সমস্ত জায়গায় কাপড় দিয়ে পৌঁছনো যায় না, সেখানে ব্রাশটি খুব হালকাভাবে বুলিয়ে নিন। ভুলেও কোনো অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না। জোরে ঘষলে বিশেষ করে সস্তা ফ্যাশন জুয়েলারির ক্ষেত্রে ওপরের প্রলেপ বা ফিনিশ উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া কোনো কোণায় জমে থাকা ময়লা বের করার জন্য পিন বা সুচ ব্যবহারের ইচ্ছা জাগলেও তা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে নকশায় গভীর আঁচড় পড়তে পারে।

অক্সিডাইজড ঝুমকা কি সাবান-জল দিয়ে ধোয়া যায়?
সব ধরনের কানের দুল বা গয়না পরিষ্কারের জন্য একই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। অনেক গয়নায় মুক্তো বা পাথর আঠা দিয়ে লাগানো থাকে, আবার কিছু গয়নায় সুন্দর সুতোর কাজও করা থাকে। তাছাড়া অনেক অক্সিডাইজড বা কালচে ভাবযুক্ত গয়না আসলে খাঁটি রুপোর তৈরি হয় না, সেগুলিতে কেবল ওই বিশেষ ধরনের প্রলেপ বা ফিনিশ দেওয়া থাকে। তাই পুরো গয়নাটি জলে ডুবিয়ে রাখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

যদি শুকনো কাপড় দিয়ে দাগ না ওঠে, তবে কাপড়ের একটি ছোট অংশ সামান্য ভিজিয়ে নিয়ে কেবল দাগযুক্ত নির্দিষ্ট স্থানটি মুছতে পারেন। এরপর অবিলম্বে শুকনো কাপড় দিয়ে আর্দ্রতা পুরোপুরি মুছে ফেলুন এবং বক্সে তুলে রাখার আগে গয়নাটি ভালো করে শুকাতে দিন। মোছার সময় যদি কোনো পাথর আলগা মনে হয় বা কাপড়ে গয়নার রঙ লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা বন্ধ করুন।

টুথপেস্ট ব্যবহার কি একেবারেই নিরাপদ?
অনেকেই গয়না পরিষ্কারের জন্য টুথপেস্ট, বেকিং সোডা বা সিলভার ক্লিনার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে এই পদ্ধতিগুলি অক্সিডাইজড গয়নার বাহ্যিক রূপ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে, অক্সিডাইজড রুপোর গয়না সিলভার পলিশিং লিকুইডে ডুবিয়ে রাখলে এর নকশার বৈশিষ্ট্যসূচক গাঢ় ও গভীর অংশের কারুকাজ চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। যদি গয়নাটি অত্যন্ত মূল্যবান হয় বা দাগ সহজে না ওঠে, তবে ঘরে নানা উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে পেশাদার জুয়েলারি কারিগরের সাহায্য নেওয়াটাই শ্রেয়।

অক্সিডাইজড গয়নার দীর্ঘমেয়াদি যত্ন
সেজে ওঠার সময় পারফিউম, ডিওডোরেন্ট বা হেয়ারস্প্রে ব্যবহারের পর সবার শেষে গয়না পরুন, যাতে রাসায়নিকগুলি সরাসরি এর সংস্পর্শে না আসে।

বাড়ি ফিরে গয়না খোলার পর তা কেবল বাক্সে ছুঁড়ে না ফেলে, প্রথমে নরম কাপড় দিয়ে ঘেমেমোে যাওয়া অংশগুলি মুছে নিন।

প্রতিটি গয়না আলাদা আলাদা ছোট থলি বা পাউচে সংরক্ষণ করুন। ভারী কানের দুল ও নেকপিস একসঙ্গে রাখলে সেগুলি একে অপরের সঙ্গে ঘষা লেগে নষ্ট হতে পারে, তাই সেগুলিকে আলাদা রাখাই সবচেয়ে ভালো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *