‘বুঝতে পারিনি এত বড় বিতর্ক হবে!’ নামফলক নিয়ে তুলকালাম আসানসোলে, শেষমেশ কী পদক্ষেপ নিল হোটেল কর্তৃপক্ষ?

আসানসোলের ফতেপুর এলাকায় একটি ধাবা তথা পানশালার নামফলকে পদ্মফুলের প্রতীক ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। হোটেলের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ওই প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও, পদ্মফুলটি বিজেপির নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তা নিয়ে তুমুল আপত্তি তোলে গেরুয়া শিবির। ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল আসানসোলে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতেপুর এলাকার ওই বহু পুরনো ধাবা কাম পানশালার নামকরণের সঙ্গে মিল রেখেই সম্প্রতি তাদের মূল সাইনবোর্ডে একটি পদ্মফুলের প্রতীক ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নজরে আসা মাত্রই শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। তাঁদের স্পষ্ট কথা, পদ্মফুল ভারতের মূল রাজনৈতিক দল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক। ফলে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রতীক কেন ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

স্থানীয় বিজেপি নেতা ভিকি যাদব ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দলের প্রতীকের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এমন চিহ্ন কীভাবে একটি হোটেল বা পানশালায় ব্যবহার করা হলো, সেটাই তাঁদের প্রধান প্রশ্ন। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাঁরা অবিলম্বে তা খুলে ফেলার দাবি জানান এবং হোটেলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিজেপির জেলা সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে আসার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের অনুমতি ছাড়া কেউ এভাবে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারে না বলেই দাবি করেন তিনি।

হোটেল কর্তৃপক্ষের সাফাই ও পদক্ষেপ

তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসে হোটেল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি রাহুল বাউরি জানান, এই প্রতীক ব্যবহারের ফলে যে এমন একটা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে, তা তারা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর আপাতত চিহ্নটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আগামীকালই ওই প্রতীক চিরতরে খুলে ফেলা হবে।”

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ধরনের রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থে হোটেলের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ওই লোগো বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় স্তরে বিজেপির কঠোর প্রতিবাদের মুখে পড়ে আপাতত বিতর্ক থামানোর পথেই হাঁটল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *