‘চাকরির পিছনে না ছুটে ই-রিকশ বা ট্যাক্সি চালান!’ যুবসমাজকে কি পরামর্শ দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী?

ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত চাকরির পিছনে অন্ধের মতো ছোটার সময় এবার শেষ! তার বদলে যুবসমাজকে স্বনির্ভর হতে ই-রিকশা অথবা ট্যাক্সি চালানোর পরামর্শ দিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। সম্প্রতি লখনউতে ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালুর একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি, যা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্র ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী বলেছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী?
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ প্রজন্মের সামনে কর্মসংস্থানের বিকল্প হিসেবে ড্রাইভিং বা পরিবহন ব্যবসার দিকটি তুলে ধরেছিলেন ব্রজেশ পাঠক। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, প্রচলিত চাকরির পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে নিজেদের মতো করে স্ব-কর্মসংস্থানের পথ বেছে নেওয়া অনেক বেশি লাভজনক। তাঁর যুক্তি ছিল, ই-রিকশা বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত হলে যেমন যুবকরা নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, তেমনই তাঁরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গেও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সময় কাটাতে সক্ষম হবেন।
রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড়
মন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিরোধী শিবির সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে শিক্ষিত যুবসমাজ চাকরির জন্য হাহাকার করছে এবং বেকারত্ব দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে রাজ্যের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমুখ্যমন্ত্রী কীভাবে প্রথাগত শিক্ষার পর তরুণদের পেশাগত গাড়ি চালক হওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন?
যদিও মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, যুবসমাজকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বা আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্দেশ্যেই তিনি এই রূপরেখার কথা বলেছেন। তবে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের এই জ্বলন্ত ইস্যুতে মন্ত্রীর এই ‘ট্যাক্সি চালানোর নিদান’ যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।