টাকা কি গাছে ধরে? হ্যাঁ ধরে! ফুল নয়, শুধু এই গাছের পাতা বিক্রি করেই ঘরে আসছে লাখ লাখ টাকা

“টাকা কি গাছে ধরে?”— ছোটবেলায় শোনা এই পরিচিত প্রশ্নের উত্তর যেন আক্ষরিক অর্থেই বদলে দিচ্ছে কামিনী গাছ। তবে ফুলের জন্য নয়, বরং কামিনীর সবুজ পাতাই এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বিয়ের মণ্ডপ থেকে শুরু করে গাড়ি সাজানো, বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠান, অফিস বা মঞ্চসজ্জা— নানা ক্ষেত্রে কামিনীর পাতার চাহিদা আকাশছোঁয়া। আর সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এক লাভজনক নতুন বাজার।
বাণিজ্যিক ফসলের রূপ নিচ্ছে শৌখিন গাছ
একসময় বাড়ির বাগান বা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই মূলত কামিনী গাছ লাগানো হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে। বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে ফুলের পাশাপাশি সবুজ পাতার ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে কামিনীর ডাল-পাতা এখন নিয়মিত ও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। শৌখিন এই গাছটিই এখন ধীরে ধীরে কৃষকদের কাছে লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলের রূপ নিচ্ছে।
বসিরহাট ও মিনাখা এলাকার বেশ কয়েকজন উদ্যমী যুবক ইতিমধ্যেই কামিনী গাছ চাষ করে ভালো আয় করছেন। চাষিদের মতে, এই গাছের জন্য অতিরিক্ত সার বা জটিল পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। জমিতে গাছ লাগানোর মাত্র কয়েক মাস পর থেকেই ডাল-পাতা কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। নিয়মিত ডাল ছাঁটাই করলে গাছ থেকে নতুন শাখা বের হয় এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সময়ে আবার পাতা সংগ্রহ করা যায়।
দীর্ঘমেয়াদি আয়ের নতুন সম্ভাবনা
স্থানীয় বাজারে কামিনীর ডালসহ পাতা বেশ ভালো দামে বিক্রি হয়। একটি জমিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গাছ থাকলে সারা বছর ধরেই বারবার পাতা ও ডাল বিক্রির সুযোগ থাকে। গাছ যত বড় হয় এবং শাখা-প্রশাখা বাড়ে, উৎপাদনের পরিমাণও সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়।
কামিনী চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, গাছটি ছাঁটাই করার পর অত্যন্ত দ্রুত নতুন ডাল গজায়। কাটা ডালের জায়গা থেকে নতুন শাখা বের হওয়ায় একই গাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, কামিনীর পাতা তুলনামূলকভাবে অনেকক্ষণ সতেজ থাকে, যা ইভেন্ট ডেকোরেশন বা সাজসজ্জার কাজে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
অল্প জমি, নামমাত্র পরিচর্যা এবং বাজারে দিন দিন বাড়তে থাকা চাহিদা— এই তিনের সুবাদে বসিরহাট-মিনাখা অঞ্চলে কামিনী চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামবাংলার কৃষিতে তাই নিঃশব্দে এক বিপ্লব ঘটাচ্ছে এই সবুজ পাতা।