‘আঁতলামির দিন শেষ, এবার আসল বিনোদন!’ বাংলা ছবি নিয়ে চরম হুংকার রজতাভ দত্তের, মুখে ঝামা ঘষলেন কার?

আসন্ন দুর্গাপুজোয় বড়পর্দায় ফিরছে দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির একসময়ের আইকনিক জুটি। সঙ্গে বাড়তি পাওনা অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা রজতাভ দত্তের উপস্থিতি। তবে এবারের ‘দেশু ৭’ ছবিটি অন্য সব বাণিজ্যিক ছবির থেকে একেবারেই আলাদা। কারণ, এই ছবির প্রযোজনা ও অভিনয়ের পাশাপাশি এবার খোদ পরিচালকের আসনেও দেখা যাবে দেবকে। আর প্রথমবার পরিচালক দেবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ছবির মেকিং নিয়ে মুখ খুলে একপ্রকার বোমা ফাটালেন অভিনেতা রজতাভ দত্ত।
‘মিঃ গুপ্ত’ চরিত্র ও দেবের প্রস্তুতি নিয়ে কী বললেন রজতাভ?
সম্প্রতি দেবের প্রযোজনা সংস্থার শেয়ার করা একটি বিশেষ ভিডিওতে ‘দেশু ৭’-এ নিজের চরিত্র ও পরিচালক দেবকে নিয়ে একাধিক অজানা কথা শেয়ার করেছেন রজতাভ দত্ত। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘মিঃ গুপ্ত’। হাসতে হাসতে অভিনেতা বলেন, “এই চরিত্রের সম্বন্ধে আমি কিচ্ছু বলব না, তাই তো আমার নাম ‘মিঃ গুপ্ত’! গল্পটা যেভাবে বোনা হয়েছে, দেব যদি স্ক্রিনে পুরোটা দেখায়, তবে এটুকু বলতে পারি এই চরিত্রটি আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা ও বিনোদনমূলক চরিত্র হয়ে থাকবে।”
প্রথমবার পরিচালক দেবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে রজতাভ জানান, দেব সম্পূর্ণ হোমওয়ার্ক করে সেটে এসেছিলেন। শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকে একবারের জন্যও কাউকে কড়া গলায় কথা বলতে হয়নি তাঁকে। কোন দৃশ্যে কোথায় ক্যামেরা বসাতে হবে কিংবা কোন লেন্স ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল স্ফটিকস্বচ্ছ। শুধু তাই নয়, সেটে তাৎক্ষণিক বুদ্ধি বা ইমপ্রোভাইজেশনেও সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দেব। সেটের জমা জলকে রিফ্লেকশন শট হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা নিখুঁত কারেকশন শট নেওয়ার টেকনিক দেখে মুগ্ধ হয়েছেন খোদ প্রবীণ এই অভিনেতা।
সমালোচকদের কড়া জবাব
দৃপ্ত কণ্ঠে রজতাভ দত্ত বলেন, “দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ছবি তৈরির সবক’টি বিভাগ সম্বন্ধেই স্পষ্ট ধারণা রয়েছে দেবের। এত বছর ধরে ও সেটা কাউকে বুঝতে দেয়নি! বাংলা বাণিজ্যিক ছবি একজন ‘দমদার’ পরিচালক পেতে চলেছে। যাঁরা এতদিন বলতেন ছবি মানেই শুধু আঁতলেমি বা গভীর চিন্তাভাবনা থাকবে আর বিনোদনটা গৌণ— তাঁদের মুখে ঝামা ঘষে দিতে আসছে ‘দেশু ৭’!”
আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গাপুজোর মরসুমেই বড়পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই ছবি। ছবিতে দেব, শুভশ্রী, অনির্বাণ ছাড়াও দেখা যাবে অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। তবে বক্স অফিসে পুজোয় এই ছবিটিকে লড়াই করতে হবে সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, উইন্ডোজের ‘বহুরূপী ২’ এবং এসভিএফ-এর ‘একেন বাবু: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’-র মতো হাই-ভোল্টেজ প্রজেক্টগুলির সঙ্গে।