২,৭০০ টাকার ওষুধ ২৭,০০০ টাকায় বিক্রি কেন? ক্যানসারের চিকিৎসায় চড়া দাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ক্যানসারের মতো মারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং মুনাফার বহর দেখে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তোলে, যে ওষুধের উৎপাদন বা সরবরাহ মূল্য মাত্র ২,৭০০ টাকা, তার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি (MRP) কীভাবে ২৭,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে? আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রাইভেট হাসপাতালগুলির এই অতিরিক্ত লাভ তোলার প্রবণতা আদতে গরিব ও সাধারণ রোগীদের ওপর এক চরম আর্থিক শোষণ।
ঠিক কী নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট?
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় আদালতের কড়া নজরে আসে ক্যানসারের একটি জীবনদায়ী ওষুধের দামের অস্বাভাবিক ফারাক। আদালত জানায়, যে ওষুধ মাত্র ২,৭০০ টাকায় সরবরাহ করা হয়, বাজারে তার গায়ে ২৭,০০০ টাকার দামের স্টিকার লাগিয়ে রোগীদের পকেট কাটা হচ্ছে। এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যবৃদ্ধির ফলে রোগীদের পরিবারগুলোর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।
এর পাশাপাশি, সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর একটি নির্দিষ্ট ১৬ শতাংশ লাভ মার্জিন (Margin) রাখার কোনো বিকল্প ভাবা যায় কি না, সে বিষয়েও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চায় বেঞ্চ।
হাসপাতালগুলির নিজস্ব কেমিস্ট থেকে ওষুধ কেনার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন
শুধুমাত্র ওষুধের চড়া দামই নয়, দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলির একটি বিশেষ ব্যবসায়িক নীতি নিয়েও এ দিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। অনেক হাসপাতালেই নিয়ম রয়েছে যে, ভর্তি থাকা রোগীদের শুধুমাত্র হাসপাতালের নিজস্ব ইন-হাউস কেমিস্ট বা ওষুধের দোকান থেকেই চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।
এই প্রসঙ্গে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে জানান যে, এই মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ লাভ একা ওষুধ কোম্পানিগুলো পায় না, এর একটা বড় অংশ চলে যায় প্রাইভেট হাসপাতালগুলির পেটে। এ কথা শোনার পর বেঞ্চের স্পষ্ট মন্তব্য, কোম্পানি বা হাসপাতাল লাভ করল কি না তাতে যায় আসে না, কিন্তু দিনের শেষে এই ব্যবস্থার জাঁতাকলে পিষে মরতে হচ্ছে সাধারণ ট্যাক্সপেয়ার এবং অসহায় রোগীদের। রোগীদের সামনে অন্য কোনো ভালো বা সস্তা বিকল্প খোলা না রাখার এই সংস্কৃতি প্রতিযোগিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কী বলছে কেন্দ্র?
ড্রাগস (প্রাইসেস কন্ট্রোল) অর্ডার বা DPCO, 2013-এর নিয়মাধীন বিভিন্ন আবেদনের ভিত্তিতেই এই শুনানি চলছে। এ দিন কেন্দ্রের পক্ষে জানানো হয় যে, পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন এবং উপযুক্ত ও কার্যকর কোনো পথ বের করার চেষ্টা করা হবে। ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসায় ওষুধের এই লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।