১৩ কোটির ভোটাধিকার হরণ! সিইসি-র পদত্যাগ ও অবিলম্বে এসআইআর বন্ধের চরম হুঁশিয়ারি রাহুলের

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ‘গড়াপেটা’ এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর মাধ্যমে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরাসরি কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলো কংগ্রেস। মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক কমিটি (CWC)-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি দিল্লির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধির মতো শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে দলের পক্ষে কেসি বেণুগোপাল ও জয়রাম রমেশ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, নির্বাচন কমিশনকে হাতের পুতুল বানিয়ে দেশে ভোট চুরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোট জালিয়াতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস এবার শুধু মৌখিক বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
কংগ্রেসের প্রধান দাবিগুলি কী কী?
-
সিইসির পদত্যাগ: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সমস্ত নৈতিকতা হারিয়েছেন এবং তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
-
এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত: ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ নাগরিকের নাম অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে এবং চলমান এই সংশোধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
-
মোদি-শাহের পদত্যাগ: কংগ্রেস নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন কেবল উপলক্ষ মাত্র। ভোট চুরির আসল হোতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে তাঁদেরও পদত্যাগ করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেসের এই চড়া সুর জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।