সম্ভল সহিংসতা: সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে ইউপি সরকার, ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা!

উত্তরপ্রদেশের সংবেদনশীল সম্ভল সহিংসতা মামলায় অভিযুক্ত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এর আওতায় জারি করা প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশি কার্যপদ্ধতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপর ১০ লক্ষ টাকার জরিমানা ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত। এই রায়ের পর থেকেই সম্ভলের দীপা সরাই এলাকার আফরোজের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর নিস্তব্ধতা। স্থানীয় প্রতিবেশীরাও এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।
কে এই মোল্লা আফরোজ?
সম্ভলের দীপা সরাইয়ের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সি মোল্লা আফরোজ পেশায় একজন শস্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর প্রয়াত বাবা আফসার হুসেনও একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ছিলেন। আফরোজ বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রধান কারাগারে বন্দি হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে ওই বাড়িটি পুরোপুরি ফাঁকা ও জনমানবহীন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর সম্ভলের ঐতিহাসিক শাহি জামা মসজিদ চত্বরে সার্ভে চলাকালীন ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তদন্ত এগোতেই অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে আফরোজের নাম। পুলিশের দাবি, সহিংসতার সময় অস্ত্র সরবরাহ করার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। যদিও এই অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুবাই সংযোগ এবং গ্রেফতারি
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই সহিংসতার নেপথ্যে দুবাইয়ে বসবাসকারী শারিক সাথার হাত রয়েছে। শারিকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উসকানি দেওয়া এবং সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের ছক কষার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। সেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই মোল্লা আফরোজকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার।
ঘটনার প্রায় ৫৫ দিন পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আফরোজকে গ্রেফতার করা হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নথিপত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক এফআইআর-এ তাঁর নাম ছিল না। পরবর্তীতে পুলিশের কাছে দেওয়া তথাকথিত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাঁকে এই মামলাগুলোতে জড়ানো হয়। যদিও একটি মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন, তবুও ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে এনএসএ আরোপ করা হয়। ২০২৬ সালের জুন মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই আটকাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিলে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।
কেন আটকাদেশ বাতিল করল শীর্ষ আদালত?
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় পুলিশি হেফাজতে নেওয়া অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানতে চায় যে, পুলিশি হেফাজতে জবরদস্তিমূলক বা অনিবন্ধিত স্বীকারোক্তি কি আদতে এনএসএ-র মতো কঠোর আইনের অধীনে কাউকে আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট ভিত্তি হতে পারে? উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আদালত রায়দান সুরক্ষিত রাখে এবং শেষ পর্যন্ত এনএসএ আটকাদেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। আইনি লড়াইয়ে এই জয় কিছুটা স্বস্তি আনলেও সম্ভলের এই ঘটনার জেরে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পারদ এখনও বেশ চড়াই রয়েছে।