জলের ফোঁটার জন্য হাহাকার! প্রশাসনকে চাপে রাখতে আস্ত গ্রামটাই বিক্রির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা!

প্রশাসনকে বাধ্য করতে নানা উপায়ে প্রতিবাদের কথা শোনা যায়, কিন্তু জলের অভাবে আস্ত একটি গ্রামকেই বিক্রির জন্য তুলে ধরার এমন অভিনব এবং মর্মান্তিক ঘটনা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার মাধা তালুকের তুলসী গ্রামের বাসিন্দারা এখন জলের প্রতিটি ফোঁটার জন্য এতটাই মরিয়া যে, তারা পুরো গ্রাম বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রামের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের দেয়ালে দেয়ালে এখন সাঁটানো রয়েছে ‘এই গ্রাম বিক্রির জন্য, জল বিক্রির জন্য’ লেখা ব্যানার। গ্রামবাসীদের সাফ কথা, সরকার যখন পানীয় ও কৃষিকাজের জন্য ন্যূনতম জলের ব্যবস্থা করতে পারছে না, তখন এই গ্রাম ধরে রেখে কোনো লাভ নেই।

২৬ বছর ধরে অসম্পূর্ণ সেচ প্রকল্প

গ্রামবাসীর এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রশাসনিক অবহেলা। অবাক করার মতো বিষয় হলো, সিনা-মধা সেচ প্রকল্পের মূল খালটি এই গ্রামের ঠিক পাশ দিয়েই চলে গেছে। কিন্তু গত ২৬ বছর ধরে সেই খালের কাজ অসম্পূর্ণই পড়ে রয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খালের সপ্তম ও অষ্টম মোহনার কাছে প্রায় ৮০০ মিটার খননকাজ বাকি থাকায় তাঁরা এই প্রকল্পের জলের এক ফোঁটাও সুবিধা পাননি। কৃষ্ণ ভ্যালি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ২০২৪ সালে এই গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামসভায় গ্রাম বিক্রির প্রস্তাব পাশ করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

শুকিয়ে যাওয়া কুয়ো আর জলের ট্যাঙ্কারের নির্ভরতা

প্রায় ৭,০০০ জনসংখ্যাবিশিষ্ট তুলসী গ্রামে বর্তমানে পানীয় জল তো দূরের কথা, কৃষি ও পশুপালনের জন্যও পর্যাপ্ত জল নেই। স্থানীয় কুয়ো এবং ঝরনাগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসা এখন জলের ট্যাঙ্কার। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে চাষের মাঠের ফসল আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। এর জেরে জীবিকা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন কৃষকরা।

বিয়ে ভাঙছে যুবকদের, অনশন ও থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ

জল সংকটের কোপ পড়েছে গ্রামের সামাজিক জীবনেও। সরপঞ্চ শারদ মোর জানিয়েছেন, জলের মারাত্মক সংকটের কারণে গ্রামের প্রায় ৩৫০ জন যুবকের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে বা সম্বন্ধ আসতেই চাইছে না। এই দুর্দশার স্থায়ী সমাধানে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন গ্রামবাসীরা। পরে মাধা তহসিল অফিসের বাইরে থালা বাজিয়ে প্রশাসনের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা চালান তাঁরা। জল জীবন মিশনের অধীনে কিছু কাজ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, অবিলম্বে অসমাপ্ত সিনা-মাধা প্রকল্পের কাজ শেষ করে গ্রামে জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। নয়তো এই আন্দোলন আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *