‘ওম শান্তি ওম’ সেটে মিঠুন আসতেই হুড়মুড় করে উপর থেকে ঝাঁপ! উন্মাদনায় অজ্ঞান ফ্যান, ফাঁস হল কোন গোপন সত্যি?

বলিউডের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তীকে (Mithun Chakraborty) নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা যে ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তার প্রমাণ অতীতে বহুবার মিলেছে। তবে মহাগুরুকে নিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর ও মজার তথ্য সম্প্রতি ফাঁস করেছেন জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার তথা পরিচালক ফারাহ খান (Farha Khan)। সম্প্রতি ফারাহর নিজস্ব ভ্লগে দুই ছেলে মিমো ও নামাশিকে নিয়ে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন মিঠুন দা। আর সেই আড্ডার ছলেই ২০০৭ সালের মেগা ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওম শান্তি ওম’ (Om Shanti Om) এবং তার আইকনিক গান ‘দিওয়াঙ্গি দিওয়াঙ্গি’-র শুটিংয়ের নেপথ্য কাহিনীর এমন কিছু মজার সিক্রেট সামনে এল, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে।

মিঠুন আসতেই সেটে তুলকালাম!
ফারাহ খান জানান, ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওই মেগা বাজেটের গানে শাহরুখ খান ছাড়াও সলমন খান, কাজল, রেখা, সঞ্জয় দত্ত, গোবিন্দার মতো প্রথম সারির ৩১ জন তাবড় বলিউড তারকাকে একসঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এত তারকার ভিড় সত্ত্বেও সেটে যখন মিঠুন চক্রবর্তী পা রাখলেন, তখন এক মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

মহাগুরুকে একঝলক সামনাসামনি দেখার জন্য সেটের কলাকুশলীদের মধ্যে উপচে পড়া হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই বেসামাল হয়ে ওঠে যে, এক লাইটম্যান শুধু মিঠুন দাকে একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য সোজা উপর থেকে নিচে ঝাঁপ মারেন! অতিরিক্ত ভিড় ও ভক্তদের উন্মাদনায় সেদিন রীতিমতো পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এমনকি ভিড়ের চোটে এক মহিলা ভক্ত জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন। কিং খান ও ফারাহ সেই দৃশ্য দেখে একেবারে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন। মজার বিষয় হলো, সেদিনের সেই বাস্তব কাণ্ডটিকেই পরে ওই গানের দৃশ্যায়নে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ফারাহ।

শাহরুখের মাথায় খোদ মহাগুরুর ‘টাপলি’!
শুধু তাই নয়, গানে মিঠুন ও শাহরুখের যে আইকনিক নাচের দৃশ্যটি রয়েছে, তার পিছনেও লুকিয়ে রয়েছে এক দারুণ মিষ্টি ও অজানা গল্প। শুটিং চলাকালীন ফারাহ শাহরুখকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মিঠুন দার বিশেষ ড্যান্স স্টেপ অনুকরণ করতে। কিন্তু কিং খান শত চেষ্টা করেও মহাগুরুর সেই সিগনেচার স্টাইল কিছুতেই নিখুঁতভাবে নামাতে পারছিলেন না।

ঠিক তখনই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন মহাগুরু। হেসে মিষ্টি করে শাহরুখের মাথায় সপাটে এক ‘টাপলি’ (আলতো কিল বা চড়) মেরে বসেন তিনি! ওই স্বতঃস্ফূর্ত এবং মজার মুহূর্তটি এতটাই চমৎকার ছিল যে, ফারাহ এডিটিংয়ের সময় তা একটুও ছাঁটেননি, বরং সোজা ফাইনাল কাটে রেখে দেন।

১৯৭৬ সালে প্রথম ছবি ‘মৃগয়া’-র জন্যই জাতীয় পুরস্কার জয় করে কেরিয়ার শুরু করা এই কিংবদন্তি অভিনেতা আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘অগ্নিপথ’-এর মতো ছবির সুবাদে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। কেরিয়ারে তিন তিনটি জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি পদ্মভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত এই মহাতারকার ক্যারিজমা যে আজও একটুও ম্লান হয়নি, ফারাহ খানের এই স্মৃতিচারণাই তার সেরা প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *