“আমার বাবা কোনো ভুল কাজ করেননি!” জামিন পেতেই ডাব্বু-ঝলমলে উল্লাস, নন্দীগ্রামে হুডখোলা জিপে জয়ের প্রস্তুতি

নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক উত্তাপে ফুটছে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা। পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে এতদিন জেলে থাকার পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate) মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। জেলমুক্তির এই খবর এলাকায় পৌঁছাতেই কংগ্রেস শিবির থেকে শুরু করে তাঁর পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। অন্যদিকে, এই আইনি স্বস্তিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।
মেয়ের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও উচ্ছ্বসিত কংগ্রেস শিবির
বাবার জামিন পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মিলন প্রধানের কন্যা অরুণিমা প্রধান। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কারও নাম নেব না। যা সত্যি, তাই থাকুক। আমার বাবা কখনও কোনো ভুল কাজ করেননি। আমার বাবার যেটা হওয়ার, ঠিক সেটাই হবে।”
এদিকে, নেতার জামিনের খবর চাউর হতেই নন্দীগ্রাম বাইপাস সংলগ্ন কংগ্রেস কার্যালয়ে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়ে যায়। ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে দলের আপামর কর্মী-সমর্থকরা আনন্দে মেতে ওঠেন। কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “মহামান্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। আজ গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ কখনও করা যায়নি, আজও যাবে না।” শুধু তাই নয়, মিলন প্রধানকে বরণ করে নেওয়ার বিরাট প্রস্তুতির কথাও শোনা গিয়েছে তাঁদের মুখে। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, জেল থেকে ফেরার পর হুডখোলা জিপে ফুল দিয়ে বরণ করে পুরো ব্লকে বিজয় মিছিল ও প্রচার করা হবে।
রাজনৈতিক মহলে পড়ে গেছে শোরগোল
মিলন প্রধানের এই জামিন পাওয়াকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষ প্রতিবাদ করেছে, আর মহামান্য আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে মিথ্যাকে চিরস্থায়ী করা যায় না।”
অন্যদিকে, এই ঘটনায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র সজল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, খুনের মামলার আসামিকে প্রার্থী করবে আর পুলিশ তাকে ধরবে না—এমনটা হতে পারে না। সরকারের কাজ আইনকে তার পথে চলতে দেওয়া।” পিছিয়ে নেই বামেরাও। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীর পাশাপাশি মিলন প্রধানের বিরুদ্ধেও আমরা রাজনৈতিক লড়াই লড়ছি। উনি জেলে বসে আছেন বলে আমরা চুপিচুপি প্রচার সেরে ফেলব, এমন কাজ আমরা করি না। সেটা বিজেপির সংস্কৃতি। আর সেই কারণেই ভোট ঘোষণার পর পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার হতে হয়েছিল।” সব মিলিয়ে, ভোটবাক্স খোলার আগেই মিলন প্রধানের মুক্তি নন্দীগ্রামের লড়াইকে আরও বেশি জমিয়ে তুলেছে।