ফের চরম বিপর্যয় আলিপুর চিড়িয়াখানায়! গর্ভবতী তরুণী সিংহীর আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড়, নেপথ্যে কোন রহস্য?

ফের বড়সড় ধাক্কা আলিপুর চিড়িয়াখানায়। অকালেই প্রাণ হারাল একটি তরতাজা ও যুবতী সিংহী। মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সি ওই সিংহীটির আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এখন গোটা চত্বরে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক সূত্রে খবর, মৃত ওই সিংহীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি বন আধিকারিকরা।

কীভাবে মৃত্যু হল সিংহীটির?
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে ওড়িশার বিখ্যাত নন্দনকানন চিড়িয়াখানা থেকে ওই সিংহীটিকে আলিপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিন ধরেই তার পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। সংক্রামক ওই অংশ থেকে লোম ও চামড়া পর্যন্ত উঠে যেতে শুরু করেছিল। সেই অবস্থাতেই তার খাঁচায় রেখে চিকিৎসা চলছিল।

কিন্তু গত রবিবার আচমকাই সিংহীটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। এরপরই তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে চিড়িয়াখানার উল্টো দিকের পশু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টা এবং সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোমবার সকালে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তার। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবারই হাওড়ার গড়চুমুকে সিংহীটির দেহ সৎকার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল রহস্য বা কারণ পরিষ্কার হবে।

কাঠগড়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ও থমকে যাওয়া প্রজনন পরিকল্পনা
তরতাজা একটি প্রাণীর এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আলিপুর চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্পবয়সি এই সিংহীটির অসুস্থতা যদি আরও দ্রুত চিহ্নিত করা যেত এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যেত, তবে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।

উল্লেখ্য, আলিপুর চিড়িয়াখানায় বহুদিন ধরেই সিংহের বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। ২০১৯ সালে হায়দরাবাদ চিড়িয়াখানা থেকে আনা সিংহ-দম্পতি ‘শ্রুতি’ ও ‘বিশ্বাস’-এর ঘরে তিনটি শাবকের জন্ম হয়েছিল। এরপর দীর্ঘকাল আর নতুন শাবকের মুখ দেখেনি চিড়িয়াখানা। সেই খরা কাটাতেই ২০২৪ সালের অগস্টে নন্দনকানন থেকে এক জোড়া নর-নারী সিংহকে আলিপুরে আনা হয়েছিল। নতুন এই জুটির হাত ধরেই প্রজননের বড় স্বপ্ন দেখেছিল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু গত বছর জুলাই মাসে বার্ধক্যজনিত কারণে পুরুষ সিংহ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। আর এবার মারা গেল সেই নতুন আনা স্ত্রী সিংহীটিও। এর ফলে আলিপুরে বর্তমানে মোট সিংহের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চারটিতে—যার মধ্যে রয়েছে একটি পুরুষ এবং তিনটি স্ত্রী সিংহ (শ্রুতি ও তার দুই কন্যা)। কিন্তু বয়সের কারণে শ্রুতি ও তার কন্যাদের দিয়ে নতুন করে প্রজননের কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে ভিন রাজ্য বা বাইরে থেকে নতুন সিংহ এনে প্রজননের উদ্যোগ বজায় রাখা এখন কর্তৃপক্ষের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সঙ্গিনীকে হারিয়ে চিড়িয়াখানার বেঁচে থাকা পুরুষ সিংহটিও বর্তমানে অত্যন্ত মনমরা হয়ে পড়েছে এবং তার খাওয়া-দাওয়াও অনেকটা কমে গিয়েছে। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও বন্যপ্রাণপ্রেমীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *