“পুজোর আনন্দ মাটি করতে আসছে ডেঙ্গি!”-উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

শারদোৎসব যখন একেবারে দোরগোড়ায়, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যবাসীর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলছে লাফিয়ে বাড়া ডেঙ্গি সংক্রমণ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাঝে যাতে এই রোগ মহামারীর রূপ না নেয়, তার জন্য এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল নবান্ন। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে ডেঙ্গির ‘হাই রিস্ক’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।
রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার প্রশাসনকে ডেঙ্গি দমনে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবারই নবান্নে সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। সেই বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে সামান্যতম গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না। স্বাস্থ্য, পুর ও পঞ্চায়েত— এই সমস্ত দফতরকে একযোগে মাঠে নেমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গির পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুজোর ঠিক আগের দুই সপ্তাহে নতুন করে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের গ্রাফ দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সংক্রমণের গতি কতটা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। গত ৬ অগাস্ট যেখানে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২,৪১০, সেটাই এক মাস পর ১০ সেপ্টেম্বর দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৪,৬৭৯-এ। আর সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে রাজ্যে ডেঙ্গির কবলে থাকা মানুষের সংখ্যা ৭,৩২০ জন। প্রতিদিন গড়ে দেড়শতেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর সাধারণত রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই ডেঙ্গির প্রকোপ সবথেকে বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংক্রমণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খোদ কলকাতা। পাশাপাশি নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও সংক্রমণের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি পরিস্থিতি সামাল দিতে পুজোর মরশুমে শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র জোর দেওয়া হচ্ছে পরিচ্ছন্নতার ওপর। কোথাও যাতে জল জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে, তার জন্য নিয়মিত ব্লিচিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দিতে বলেছে রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দ যাতে ডেঙ্গির আতঙ্কে ম্লান না হয়ে যায়, তার জন্যই এখন থেকেই সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামছে প্রশাসন।