জন্ম ১৯৬৫৫, আর স্কুল পাশ ১৯৬৩-তে! হাসিরানির বিরুদ্ধে মারাত্মক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উড়িয়ে দিল হাইকোর্ট

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। মনোনয়নপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিতে কংগ্রেসের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ এই রায়দান করে, যার ফলে ভোটের ময়দানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে পদ্মশিবির।
কী ছিল কংগ্রেসের মূল অভিযোগ?
আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল বিজেপি প্রার্থীর বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার খতিয়ান নিয়ে। কংগ্রেস শিবিরের অভিযোগ ছিল, হলফনামায় হাসিরানি রথ নিজের জন্ম সাল ১৯৬৫ বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ একই নথিতে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ১৯৬৫ সালেই ‘চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ’ স্কুল থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন! কংগ্রেসের আইনজীবীদের কটাক্ষ, জন্ম নিয়েই কি কেউ সরাসরি ক্লাস টেনে উঠে পড়েছিলেন?
তর্ক এখানেই শেষ হয়নি। কংগ্রেসের আরও দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট স্কুলটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে সময় সেখানে কেবল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হতো। দীর্ঘ ১০ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে স্কুলটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায়। ফলে প্রার্থীর জমা দেওয়া সার্টিফিকেটের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা জালিয়াতি বলে দাবি করে কংগ্রেস। রিটার্নিং অফিসার কেন সেই সময় পদক্ষেপ করলেন না, সেই প্রশ্ন তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের আইনজীবীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, মনোনয়ন স্ক্রুটিনির (scrutiny) সময়ে কেন এই বিষয়ে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ জানানো হয়নি?
হাইকোর্টের রায়ে স্বস্তি
গত শুক্রবার সমস্ত পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। অবশেষে মঙ্গলবারের মেগা শুনানিতে কংগ্রেসের সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এক্তিয়ারে আদালত সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। আদালতের এই রায়ের ফলে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ময়দানে আইনি জট কাটিয়ে আপাতত বড় জয় পেলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।