শুভেন্দুর বাড়িতে তল্লাশি মানেই রাজনৈতিক চক্রান্ত! পুলিশের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে হাইকোর্টে খারিজ মামলা

বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর কোলাঘাটের অফিস এবং বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছে স্বয়ং পুলিশ। হাইকোর্টে জমা দেওয়া পুলিশি রিপোর্টে কোলাঘাট থানা স্পষ্ট জানিয়েছে, সেই তল্লাশি থেকে অনৈতিক বা আপত্তিকর কিছুই উদ্ধার করা যায়নি, এমনকি সে সময় একটি ফাঁকা সিজার লিস্ট তৈরি করা হয়েছিল। আর এই তদন্তে কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ।
ঠিক কী ঘটেছিল সে দিন?
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কোলাঘাটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযোগ উঠেছিল, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন পুলিশকর্মী আচমকা তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলেন। পুলিশের তরফ থেকে সেই সময় দাবি করা হয়েছিল যে, কোনো এক পলাতক দুষ্কৃতীর খোঁজে সেখানে তল্লাশি চালাতে যাওয়া হয়েছিল।
তবে পুলিশের সেই যুক্তি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই তাঁর বাড়িতে এই ‘হামলা’ চালানো হয়েছে। বাড়ির লোক বা সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে কীভাবে এই অভিযান সম্ভব, সেই জোরালো প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
আইপিএস অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনে পাঠানো সেই চিঠিতে তৎকালীন পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য, এএসপি নিখিল আগরওয়াল, তমলুকের সার্কেল ইন্সপেক্টর চম্পকরঞ্জন চৌধুরী, সিএমজি সেল ওসি সৌরভ মিত্র, এমটিও এএসআই কৌশিক ঢাল এবং কোলাঘাট থানার ওসি সৌরভ চিন্নারের মতো উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু। এমনকি ঘটনার দিন রাতেই ফোন করে পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছিলেন তিনি।
হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন শুভেন্দুর আইনজীবীরা জোরালোভাবে দাবি করেন যে, পুলিশের ওই তল্লাশি অভিযানে সাধারণ উর্দিধারীদের পাশাপাশি বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) লোকজনও উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব ও পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে অবশেষে আদালত এই তল্লাশি অভিযানের গোটা প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধির বিষয়টি স্পষ্ট করে মামলাটি খারিজ করে দিল।