আইডি কার্ড ছাড়া পরিচয় ছাড়াই হোমস্টেতে এন্ট্রি! গুয়াহাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গুয়াহাটির ধারাপুর এলাকার একটি হোমস্টে থেকে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো অনুমান, ওই হোমস্টের ভেতরে তরুণীকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। পশ্চিম গুয়াহাটির ডিসিপি বলিন দেওরি জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে এক পুরুষসঙ্গীকে নিয়ে ওই হোমস্টেতে এসেছিলেন মৃত তরুণী। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের কারোরই কাছেই কোনো দরকারি পরিচয়পত্র বা নথি ছিল না। তা সত্ত্বেও হোমস্টে কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়ম না মেনেই তাঁদের থাকতে দিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে ওই মহিলা ও তাঁর পুরুষসঙ্গীর মধ্যে তুমুল বচসা বাঁধে। এমনকি সেই ঝামেলার কথা সে রাতেই ফোন করে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ওই তরুণী।
মৃত ওই তরুণী গুয়াহাটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। গত তিন দিন আগে ওই হোমস্টে থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে যার জেরে এটিকে খুন বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ এখনও নিশ্চিতভাবে একে খুন বা আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করেনি, তবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ২৬ বছরের ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতের দাবি, তরুণী নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তবে ধৃতের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ মনে করছে, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। সেদিন পুলিশ হোমস্টেতে পৌঁছানোর পর ঝুলন্ত দেহ নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তরুণীর শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলি থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁকে খুন করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে হোমস্টে ও তার আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি সেখানকার কর্মীদেরও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ওই হোমস্টেতে অতিথিদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণের কোনো বালাই ছিল না।
এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গুয়াহাটিতেই আরও একটি হোমস্টে থেকে এক তরুণীর উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। জালুকবাড়ি থানার অন্তর্গত সানফ্লাওয়ার হোমস্টেতে ঘটা এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই তরুণীকে সেখানে নিয়ে আসা ব্যক্তি এবং হোমস্টের ম্যানেজারকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।