সেনসেক্সে ৬০০ পয়েন্টের রক্তক্ষরণ! ছয় মাসের সর্বনিম্নে নেমে শেয়ার বাজারে ধস, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের

ভারতীয় শেয়ার বাজার বর্তমানে এক অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সোমবারের রেশ বজায় রেখে মঙ্গলবারেও বাজারের সেই রক্তক্ষরণী রূপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। বাজারে এতটাই ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে যে সেনসেক্স এবং নিফটি গত ছয় মাসের মধ্যে তাদের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেনসেক্স ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়, আর ধাক্কা খায় নিফটিও। বিনিয়োগকারীদের মুখে হতাশা আর দুশ্চিন্তার মেঘ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজার যেভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে, তার পেছনে কয়েকটি প্রধান বৈশ্বিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছয় মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি বাজার
সোমবার সেনসেক্স ১১০০ পয়েন্টেরও বেশি ধসে ৭২,৭৭১-এ বন্ধ হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে লেনদেন শুরু হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সকাল প্রায় ৯:৫০ নাগাদ সেনসেক্স ৬২৯ পয়েন্ট কমে নেমে আসে ৭২,১৪৭-এ। আগের দিনের তুলনায় এটি প্রায় ০.৮৬ শতাংশের একটি উল্লেখযোগ্য পতন, যা বাজারকে ছয় মাসের সর্বনিম্ন স্তরের খুব কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। নিফটি ১৭৭ পয়েন্ট কমে বর্তমানে ২২,৬০০-র ঘরে লেনদেন হচ্ছে।

পতনের নেপথ্যে কোন কারণগুলি?
বাজারের এই মারাত্মক পতনের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা:

আকাশছোঁয়া অপরিশোধিত তেল: বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৩৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৭ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি। এর ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই কর্পোরেট সংস্থার মুনাফাও কমছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডের বৃদ্ধি বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহার: বাজারে এই আতঙ্কের অন্যতম মূল কারণ হলো বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) লাগাতার শেয়ার বিক্রি। সোমবার তারা প্রায় ৫৩.৫৩ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৫৫৮ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন, যা গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। রেলিগেয়ার ব্রোকিং-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিত মিশ্র জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাজারের ওপর চাপ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DIIs) ৫১.৮৯ বিলিয়ন রুপির শেয়ার কিনে বাজারকে স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও, তা পতন রোধ করার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

আদানি ও টাটা গ্রুপের শেয়ার নিয়ে চর্চা
এই ব্যাপক মন্দার বাজারেও নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। মঙ্গলবার আদানি গ্রুপের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) গ্রুপ চেয়ারম্যান গৌতম আদানি সহ চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে চলা তদন্ত শেষ করেছে। ন্যূনতম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং সংক্রান্ত এই মামলায় সেবি মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মাত্র দু’জন ব্যক্তির ওপর ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে।

অন্যদিকে, শিরোনামে রয়েছে টাটা গ্রুপও। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়মকানুনের আওতা থেকে বাঁচতে টাটা ট্রাস্টস তাদের দুটি কোম্পানিকে টাটা সন্স-এর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে। এই কর্পোরেট পদক্ষেপের জেরে টাটা গ্রুপের শেয়ারগুলিতেও যথেষ্ট অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *