১৩ বছর পর ফের বায়ুসেনার পোশাকে! সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ইতিহাস গড়ে চাকরিতে ফিরছেন শহিদ-পত্নী প্রিয়াঙ্কা

পারিবারিক দায়িত্বের কারণে একসময় যিনি স্বেচ্ছায় ভারতীয় বায়ুসেনার চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই স্কোয়াড্রন লিডার প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনাকে ফের দেখা যাবে বায়ুসেনার ইউনিফর্মে। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় বায়ুসেনাকে (IAF) নির্দেশ দিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনাকে পুনরায় চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে, সাধারণ কোনো নিয়োগ বিধির আওতায় নয়, বরং সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, যাতে এই বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
কে এই স্কোয়াড্রন লিডার প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনা?
প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনা ২০০৩ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার লজিস্টিক্স শাখায় শর্ট সার্ভিস কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে যোগদান করেছিলেন। সুদীর্ঘ প্রায় ১০ বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বায়ুসেনায় পরিষেবা দেন। কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি নিজের ইচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। মূলত সেই সময়ে পরিবার, স্বামী এবং ছোট সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্বকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সেই কারণেই চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর বিকল্প পথ বেছে নেননি এবং পার্মানেন্ট কমিশনের জন্যও আবেদন করেননি তিনি।
স্বামীর শহিদ হওয়ার পরই শুরু হয় আসল লড়াই
অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কার স্বামী উইং কমান্ডার হর্ষিত সিনহা ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার একজন অত্যন্ত দক্ষ ফাইটার পাইলট। তিনি শ্রীনগর-ভিত্তিক ৫১ স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজস্থানের জয়সলমের এয়ারফিল্ডের কাছে একটি মিগ-২১ বাইসন বিমান মারাত্মক দুর্ঘটনার কবле পড়ে এবং এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বামীর আকস্মিক প্রয়াণের পর দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম লড়াইয়ের মুখে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। এরপর স্বামীর শহিদ হওয়ার পর তিনি ফের বায়ুসেনায় তাঁর পুরনো পদে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। তাঁর মূল যুক্তি ছিল, তিনি এর আগে সফলভাবে ১০ বছর বায়ুসেনায় পরিষেবা দিয়েছেন, তাই এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাঁকে যেন পুনরায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।
কেন আবেদন খারিজ করেছিল বায়ুসেনা?
প্রিয়াঙ্কার সেই আবেদন প্রথম দফায় গ্রহণ করেনি ভারতীয় বায়ুসেনা। তাঁদের যুক্তি ছিল, যুদ্ধবিধবাদের পুনর্বাসন বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর ধার্য করা রয়েছে এবং প্রিয়াঙ্কা ইতিমধ্যেই সেই বয়সসীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন।
বায়ুসেনার এমন জবাবি সিদ্ধান্তের পর দমে না গিয়ে তিনি আর্মড ফোর্সেস ট্রাইব্যুনালের (AFT) দ্বারস্থ হন। যদিও ট্রাইব্যুনাল সরকারকে এমন মহিলাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিলেও, ব্যক্তিগতভাবে প্রিয়াঙ্কাকে আইনি কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপেই ১৩ বছর বাদে তাঁর এই সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হলো।