বিয়ে তো দূর অস্ত, মা হতে স্পার্ম ডোনারের কাছে গিয়েছিলেন স্বরা ভাস্কর! তারপর যা হল…

বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের জীবনের গল্প অনেক সময়ই চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সমাজের চেনা ছকে বাঁধা নিয়ম ভেঙে তিনি বরাবরই নিজের শর্তে বাঁচতে পছন্দ করেছেন। এক সময় তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন যে তাঁর হয়তো আর বিয়েই হবে না। কিন্তু মা হওয়ার তীব্র ইচ্ছা তাঁর মনে সবসময় ছিল। জীবনসঙ্গী না জুটলেও মাতৃত্বের স্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাননি তিনি। তাই সঠিক মানুষের অপেক্ষায় না থেকে, বিয়ের আগেই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টের দ্বিতীয় সিজনে নিজের জীবনের এই অজানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, একা হাতে সন্তান মানুষ করার পরিকল্পনা করে বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন তিনি। বাবা-মাকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তাঁর বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই আইভিএফের মাধ্যমেই তিনি সন্তান নেবেন।
মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে প্রথমে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। ভারতের মতো সমাজে একা একজন নারীর পক্ষে সন্তান মানুষ করা যে কতটা কঠিন, সে কথাও তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। তবে মেয়ের জেদ আর মাতৃত্বের আকুল ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন তাঁরা। পরিবারের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই মা হওয়ার চিকিৎসা শুরু করেছিলেন স্বরা।
মাতৃত্বের স্বাদ পেতে অজ্ঞাতপরিচয় স্পার্ম ডোনারের সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। আইভিএফ পদ্ধতিতে পরপর দুবার চেষ্টা করলেও দুর্ভাগ্যবশত দুবারই ব্যর্থতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
তবে জীবন কখন কোন দিকে মোড় নেবে তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার পর যখন আশা প্রায় ফুরিয়ে এসেছিল, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে আসেন যুবনেতা ফাহাদ আহমেদ। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। কাজের সূত্রে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব এবং শেষমেশ তা প্রেমে গড়ায়। সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আইনি মতে বিয়ে সেরে ফেলেন তাঁরা।
স্বরা জানিয়েছেন, বিয়ে এবং মা হওয়ার সুখবর তাঁর জীবনে প্রায় একসঙ্গে এসেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান রাবিয়া। একসময় যে স্বরা একা মা হওয়ার জন্য লড়াই করে ব্যর্থ হয়েছিলেন, আজ তিনি ফাহাদ ও রাবিয়াকে নিয়ে একটি পরিপূর্ণ ও গোছানো সংসারের অধিকারী। মাতৃত্বের যে স্বপ্ন তিনি একসময় একা দেখার সাহস করেছিলেন, আজ সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বাস্তব।