বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন শেষ! ভুয়া ভিসা ও টিকিট ধরিয়ে ৪১ বেকারের থেকে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক, অতঃপর…

বিদেশ গিয়ে মোটা বেতনে চাকরি করার স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ বেকার যুবকদের সঙ্গে প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান মিলল। রাশিয়া এবং ইজরায়েলে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় ৪১ জন যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (EOW)। ধৃত ওই ব্যক্তির নাম শান্তা রাম বারকু শেলকে।

কীভাবে চলত এই প্রতারণার জাল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব দিল্লির ব্যস্ত লক্ষ্মী নগর এলাকার জওহর পার্ক চত্বরে একটি অফিস খুলে এই ভুয়া রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি চালাত অভিযুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে আকর্ষণীয় বেতনের বিজ্ঞাপন দিয়ে বেকার যুবকদের টোপ দেওয়া হতো। চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো নিখুঁতভাবে তৈরি জাল জব অফার লেটার, ভুয়া ভিসা এবং বিমানের টিকিট।

সর্বস্বান্ত হওয়া প্রার্থীরা যখন ওই সমস্ত ভুয়া নথিপত্র হাতে নিয়ে বিমানবন্দর পৌঁছাতেন, তখন তাঁদের বুঝতে পারতেন যে তাঁরা বিশাল প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এর পরই অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে দেখা যায় তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং লক্ষ্মী নগরের অফিসটিও তালাবন্ধ করে পালিয়ে গিয়েছে সে।

আইনি মারপ্যাঁচ এবং গ্রেপ্তারি

তদন্তে নেমে ইওডব্লিউ জানতে পারে যে, নিজের কারবারকে আইনি বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি ভুয়া জিএসটি (GST) নম্বরও নিয়ে রেখেছিল ওই প্রতারক। সাধারণ যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা সরাসরি ওই জাল ফার্মের অ্যাকাউন্ট এবং অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হতো।

পুলিশের খাতায় নাম ওঠার পর থেকেই একটানা নিজের অবস্থান বদলাচ্ছিল অভিযুক্ত শান্তা রাম। দিল্লি ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নালাসোপারা এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে ইওডব্লিউ-র বিশেষ দল। আদালতে পেশ করার পর তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *