সিসিটিভিতে শিউরে ওঠা দৃশ্য! চারতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে কী ঘটেছিল রাশিক শরণের সঙ্গে?

সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রাশিক দুলারি শরণের মৃত্যুকে ঘিরে বৃন্দাবনে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি গ্রাইন্ডার এবং তাঁর শরীরে মিলেছে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে চারতলার ছাদ থেকে তাঁর ঝাঁপ দেওয়ার হাড়হিম করা দৃশ্য। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দু’বছর আগে দীপক লোধি নামের ওই যুবক প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে দীক্ষা নেন। এরপর তাঁর নতুন নামকরণ হয় রাশিক দুলারি শরণ। শুক্রবার সকালে বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমের চারতলার ছাদ থেকে তিনি ঝাঁপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সিসিটিভিতে শেষ কয়েক মুহূর্তের ছবি পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন রাশিক। সেই সময় তাঁর পোশাকে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ ঘরের বাইরে থাকার পর তিনি তিন তলা পেরিয়ে চারতলার ছাদে ওঠেন। ফুটেজে দেখা যায়, কিছুক্ষণ ছাদে বসে থাকার পর তিনি মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর প্রায় ১০ সেকেন্ড পর আচমকাই উঠে দাঁড়িয়ে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট নাগাদ ছাদ থেকে সোজা নিচে ঝাঁপ দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘরে মিলল গ্রাইন্ডার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন রাশিক শরণ যে ঘরে থাকতেন, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি গ্রাইন্ডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গে আঘাতের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। কীভাবে বা কখন তিনি এই আঘাত পেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বৃন্দাবনের সার্কেল অফিসার সন্দীপ কুমার সিং জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আঘাতের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই আশ্রমের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং মৃতের রক্তের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোবাইলের মুছে ফেলা তথ্য খুঁজছে পুলিশ এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে রাশিক শরণের মোবাইল ফোন। ফোনটি ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি কোনও ছবি, ভিডিও বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট মুছে ফেলেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মুছে দেওয়া তথ্য উদ্ধার করে মৃত্যুর আসল কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

পাশাপাশি আশ্রমে থাকা এবং ঘটনার সময় রাশিক শরণের আশপাশে থাকা ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে কেন তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তার কোনও স্পষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।

উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে সরব সাধুরা এই ঘটনার পর বৃন্দাবনে সাধু সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধুদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাশিক শরণের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জোরালো দাবি ওঠে। মহন্ত মোহিনী শরণ মহারাজ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনও রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে, যা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সামনে আসবে না। গোটা বৃন্দাবন জুড়েই এখন এই মৃত্যু রহস্য নিয়ে চর্চা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *