ট্রাফিক ফাইন না দিলে সোজা কাটবে বিদ্যুৎ সংযোগ? বকেয়া চালান আদায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিরাট প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে জল্পনা!

ট্রাফিক আইন ভেঙে জরিমানার টাকা আর ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই! ই-চালানের বকেয়া টাকা আদায় নিশ্চিত করতে এবার এক অভিনব এবং কঠোর পদ্ধতির কথা বিবেচনা করার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনো চালনধারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ না মেটালে, সেই বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁর বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে রাজ্যগুলি। বিদ্যুৎ বিলের মতো জরুরি পরিষেবা আটকে যাওয়ার ভয়ে মানুষ যেমন তৎক্ষণাৎ বিল মেটায়, তেমনই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার বকেয়া ট্রাফিক ফাইনও সহজে আদায় করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে আদালত।
সোমবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে ই-চালান সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির শুরুতেই আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, কেবল ই-চালান কেটে নোটিশ পাঠিয়ে দিলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না; মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই জরিমানা বাস্তবে কোষাগারে জমা পড়ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
কী জানা যাচ্ছে মামলার পরিসংখ্যানে?
এ দিন আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ই-চালান বাবদ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা বাকি রয়েছে। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৫ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কোটি কোটি টাকার এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া জমে থাকায় ক্ষুব্ধ আদালত কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ির ভাবনা
শুধু বিদ্যুৎ বিলের সংযোগ নয়, বকেয়া চালান আদায় করতে আরও বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে রয়েছে—
-
বকেয়া চালান না মেটানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রিনিউ, ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট বা মালিকানা বদলের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
-
‘Parivahan’ পোর্টালে ডিফল্টার বা বকেয়া চালানযুক্ত গাড়িগুলিকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা।
-
গাড়ির ফিটনেস ও পিইউসি (PUC) সার্টিফিকেট আটকে দেওয়া এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নবীকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা।
পাশাপাশি, শুধু অনলাইন ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে রাস্তায় র্যান্ডম চেকিং চালিয়ে গাড়ি আটকানো এবং প্রয়োজনে তা বাজেয়াপ্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে। তবে আইনি মহলের মতে, বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ট্রাফিক চালান যুক্ত করার বিষয়টি এই মুহূর্তে কোনো পাকা বা বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়; বরং বকেয়া ই-চালানের পাহাড়প্রমাণ জট কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বা ভাবনা হিসেবেই এটি বিবেচিত হচ্ছে।