উজ্জয়িনীতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ কেন? ধুন্ধুমার সংঘর্ষ পুলিশের সঙ্গে!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সড়ক প্রশস্ত করার কাজকে কেন্দ্র করে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের সামনে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত সহজ করতে এই রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তবে ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙার সিদ্ধান্তের জেরে এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।

রোববার রাত থেকেই ছত্রি চক এলাকায় অবস্থিত মসজিদটির সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হন। সোমবার সকালে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়। বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতি ১২ বছর পর পর উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ মেলার আয়োজন করা হয়। মহাকালেশ্বর মন্দিরে শিবের পুজো দিতে এই মেলায় কোটি কোটি ভক্তের সমাগম ঘটে। জেলা প্রশাসনের ধারণা, আসন্ন মেলায় প্রায় ১২ কোটি ভক্তের সমাগম হতে পারে। এই বিপুল ভিড় সামাল দিতে এবং যানজটমুক্ত রাখতে শহরের রাস্তা ১৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া করার মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে।

উজ্জয়িনীর কালেক্টর রৌশন সিং জানান, রাস্তা প্রশস্ত করার কারণে যেসব বাড়ি বা ধর্মীয় স্থাপনা আওতায় এসেছে, অনেক মানুষ তা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিচ্ছেন। ছত্রি চকের শাহী মসজিদের অংশটিও মুসলিম সমাজের মানুষের সহযোগিতায় সরানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন।

এদিকে উজ্জয়িনী শহর কাজি খলিক উর রহমান জানান, মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের মধ্যে বৈঠকের পর কমিটির পক্ষ থেকে ওই অংশটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে কিছু মানুষের মধ্যে গুজবের কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং সংঘর্ষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে মুসলিম সম্প্রদায় মেলার বিরোধী নয়, তবে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা করে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানানো হচ্ছে।

এর আগে নয়ই সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, নগর নিগম যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। শুধু এই মসজিদ নয়, এর আগে একই সড়কে ১০টি মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার অংশও অপসারণ করা হয়েছে।

মসজিদ কমিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, জনস্বার্থ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতির জন্যই এই নির্মাণকাজ জরুরি, অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশ ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের পক্ষে অনড় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *