স্পিকারের পদত্যাগ দাবিতে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল! জম্মু ও কাশ্মীরে কোন বড় রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত?

জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছাল। গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর উত্থাপিত পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব ঘিরে যে চরম হট্টগোলের সূচনা হয়েছিল, আজ সোমবার তা আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। স্পিকার আবদুল রহিম রাথারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করার মারাত্মক অভিযোগ এনে আজ তাঁকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা প্রস্তাব ও বিজেপির তীব্র আপত্তি
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জম্মু ও কাশ্মীরকে অবিলম্বে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিধানসভায় একটি সরকারি প্রস্তাব উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ওই প্রস্তাবে ২০০০ এবং ২০২৪ সালে গৃহীত পূর্ববর্তী প্রস্তাবগুলিরও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। তাদের দাবি, স্পিকার নিয়ম শিথিল করে ও পক্ষপাতিত্ব করে মুখ্যমন্ত্রীর আনা ওই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন, যা আইনসম্মত নয়।
স্পিকারের বিরুদ্ধে এককাট্টা বিজেপি, বিধানসভায় বিক্ষোভ
স্পিকারের ভূমিকার প্রতিবাদে আজ সোমবার বিধানসভার কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়করা। ওয়েলে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করার পাশাপাশি তাঁরা স্পিকার আবদুল রহিম রাথারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। “স্পিকার সাহেব, পদত্যাগ করুন, আপনার আসন ছাড়ুন!”—এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর।
বিজেপি বিধায়ক আর. এস. পাঠানিয়া বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জানান যে, স্পিকারকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে দলীয়ভাবে ২৩ জন সদস্যের স্বাক্ষরসংবলিত একটি অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সাংবিধানিক নিয়মের কথা উল্লেখ করে বিজেপির দাবি, বিধানসভায় নিরপেক্ষভাবে সভাপতিত্ব করার নৈতিক ও আইনি অধিকার আর স্পিকারের নেই।
এনসি বনাম বিজেপি তীব্র বাকযুদ্ধ
বিজেপির এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাল্টা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC)। এনসি বিধায়ক নাজির গুরেজি বিজেপি বিধায়কদের আচরণ নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “স্পিকার সাহেব, আপনাদের মতো এমন পরিস্থিতি আর কেউ সহ্য করে না।” বিজেপি বিধায়কদের সরাসরি আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা এখানে জনকল্যাণমূলক কাজ বাদ দিয়ে গুন্ডামি করতে এসেছেন। আমরা মানুষের সমস্যা সমাধান করতে এসেছি, আর আপনারা বিধানসভায় দাঙ্গা লাগাচ্ছেন।”
সব মিলিয়ে, জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার অন্দরে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।