বাংলায় এন্ট্রি বিজয়ের দলের, প্রথম শাখা খুলল TVK, থালাপতি কবে আসবেন?

প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে নেমেই দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল তামিল সুপারস্টার সি জোসেফ বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ (TVK)। দ্রাবিড় ভূমির গণ্ডি পেরিয়ে এবার ভিনরাজ্যের মাটিতেও নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করার বড়সড় পরিকল্পনা শুরু করে দিল থালাপতি বিজয়ের দল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা রাখল টিভিকে (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলায় খাতা খুলে রাজ্যের প্রথম দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করল তারা।
পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক সূচনা
পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে রবিবার ঘটা করে উন্মোচিত হয়েছে টিভিকে-র প্রথম দলীয় কার্যালয়। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায় সহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সংঘাতে যাওয়ার বদলে সামাজিক কাজের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের অন্তরে জায়গা করে নেওয়া তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য। সংগঠনের পরিধি মজবুত করার পাশাপাশি বাংলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি আত্মিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
কী রয়েছে টিভিকে-র ব্লু-প্র প্রিন্টে?
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে যে, যেসব রাজ্যে নতুন করে দলের সংগঠন বিস্তার করা হচ্ছে, সেখানে সবার আগে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হবে। সেই নির্দেশকে অক্ষরে অক্ষরে মেনেই বাংলায় সংগঠন বিস্তারের প্রথম ধাপে সমাজসেবামূলক কাজকে হাতিয়ার করা হয়েছে। ফাগুপুরে কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলায় টিভিকে-র সাংগঠনিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সওয়াল শুরু হলো। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং দফায় দফায় জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বাংলার ভোটে লড়বে কি বিজয় শিবির?
সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, তবে কি আগামী দিনে বাংলার নির্বাচনী ময়ূরেও পা রাখবে এই দক্ষিণী দল? যদিও এই বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে জনসংযোগকেই পাখির চোখ করতে চাইছে দল।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায় জানান, “প্রথমে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার প্রচার চালাব। পরবর্তীকালে বাংলার সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনার জন্য ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচি নেওয়া হবে। আমাদের মূল এজেন্ডা শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান। আমরা ব্যক্তিগতভাবে চাই টিভিকে এখানে ভোটে অংশ নিক। তবে শেষ পর্যন্ত সবটাই নির্ভর করছে বাংলার মানুষ কী চাইছেন, তার ওপর। আর আমরা ঠিক কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব।”
তিনি আরও জানান, তামিলনাড়ু থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ আসার পরই রাজ্যে টিভিকে-র ভিত শক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় সমর্থক রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বাংলায় কবে আসছেন থালাপতি বিজয়?
দল তো আত্মপ্রকাশ করল, এবার কি তবে টলিউড ও রাজ্যবাসীর প্রিয় ‘থালাপাতি’ বিজয়কে বাংলায় দেখতে পাওয়া যাবে? এই প্রসঙ্গে রাজ্য কো-অর্ডিনেটর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সুপারস্টারের বাংলা সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাংলায় টিভিকে-র সংগঠন সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে দক্ষিণী এই তারকা অবশ্যই রাজ্যে আসবেন। চৈতালি রায়ের সংযোজন, “বর্তমানে তিনি (থালাপতি বিজয়) উপনির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন। তবে এখানে আমাদের দল সফল হলে নিশ্চিতভাবেই বিজয় স্যার বাংলায় আসবেন।” রবিবার ফাগুপুরের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু উৎসাহী সমর্থক ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন, যা দক্ষিণী তারকার দলের বাংলা জয়ের পথকে অনেকটাই প্রশস্ত করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।